লকডাউন চলাকালীন জরুরি মেডিসিন নিতে গিয়ে হেনস্তা হলেন অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ সুরজিৎ চৌধুরী

HnExpress ২৩শে মার্চ, ইন্দ্রানী সেনগুপ্ত, পাটুলি ঃ গতকাল বিকেল থেকে দেশ সহ সারা রাজ্যে করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জারি করা হয়েছে লকডাউন। শহরে করোনার ছোবল থেকে বাঁচতেই জরুরীকালিন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জরুরি পরিষেবার আওতায় ডাক্তার, নার্স, পুলিশ, মেডিসিন, বাজার, মুদি দোকান, সংবাদমাধ্যম ছাড়া বাকি সব বন্ধ। আর ঠিক এমন পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় জরুরি মেডিসিন নিতে গিয়ে পুলিশের হাতে চরম হেনস্তা হলেন, এমনটাই অভিযোগ অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ সুরজিৎ চৌধুরীর।

 

 

গতকাল রাতে সেই মর্মে সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁর হেনস্তার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান, যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে। পরে তিনি সংবাদমাধ্যমকেও জানান যে, সোমবার বিকেলে পাটুলি বাঘাযতীনে তাঁর আবাসনের কাছাকাছি এক ড্রাগিস্টের দোকানে কিছু জরুরি মেডিসিন কিনতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ সেখানে কোনো জমায়েত না থাকা স্বত্তেও একজন কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তাঁর দিকে লাঠি উঁচিয়ে হটাৎই তেড়ে আসেন। বাধ্য হয়ে তিনি তাঁর পরিচয় জানান অফিসারকে।

 

 

কিন্তু তাতে তো কোনো কাজ হয়েই না, বরং রাজনৈতিক পরিচয় পাওয়ায় উল্টে তাঁকে আরও হেনস্তা করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। কেন তাঁকে কোনো কারণ ছাড়াক এইভাবে হেনস্তা করা হলো তার কৈফিয়ত চেয়ে অভিযোগ জানান পাটুলি থানার ওসি সৌম্য ঠাকুর ও কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাকে। তাঁর প্রশ্ন রাজ্যে লকডাউন করা হলেও জরুরিকালীন পরিষেবার জন্য বাইরে যাওয়া বা মেডিসিন কিনতে যাওয়ায় কোনো বিধিনিষেধ দেননি মুখ্যমন্ত্রী। তাহলে আমাকে মেডিসিন নিতে যাওয়ার জন্য কেন হেনস্তা করা হলো!

 

 

তিনি আরও বললেন যে, যেখানে লকডাউনের বিধিনিষেধ না মেনে মদের দোকানে বা চায়ের দোকানে ভীড় জমাচ্ছে, আড্ডা দিচ্ছে সেখানে কেন পুলিশ প্রশাসন হানা দিচ্ছে না? প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অভিনেতা সুরজিৎ চৌধুরী টলিউডের একাধিক মেগা সিরিয়ালে ও বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ফিল্ম জগতে বেশ পরিচিত মুখ তাঁর। এবং সম্প্রতি অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও যোগ দেন তিনি।

 

 

অন্যদিকে পুলিশ সুত্রের খবর, জমায়েত বা ইতিউতি ঘুরে বেড়ানো যে নিষিদ্ধ তা জেনেও একজন সুনাগরিক হয়ে কেন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন সুরজিৎ বাবু? তাদের পাল্টা প্রশ্ন, যেখানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, পাওয়া গেছে একটি মৃত্যুর খবর। সেখানে কি করে তিনি এতটা উদাসীন! আইন যেহেতু সবার জন্যই সমান, তাই তিনি যাতে আইন ভঙ্গ না করেন সেই সম্পর্কেই তাঁকে সাবধান করা হয়। কিন্তু তাঁকে কোনো ভাবেই হেনস্তা করা হয়েনি বলেই দাবি। তবে দুজনের বক্তব্যই খতিয়ে দেখছেন প্রশাসন।

 

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: