২১ এর গোড়াতেই পদ্মশ্রী পাচ্ছেন ১০২ জন, বাংলার ৭ জনের মধ্যে আছেন অন্যতম কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ—

HnExpress প্রিয়দর্শী সাধুখাঁ, কলকাতা ঃ মানবজীবনে করোনা এলেও আর পাঁচটা রোগের মতই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এই রোগটিও। মাক্স, স্যানিটাইজার, সোশ্যাল ডিসটেন্স এর নিয়ম মেনেই আবার নিজস্ব ছন্দে ফিরছে ভারত। গত ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ সালের করোনা আবহের সন্ধ্যাতেই পদ্ম সম্মান প্রাপকদের তালিকা প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। মোট প্রাপকের সংখ্যা হলো ১০২ জন। গর্বের বিষয় হল যে বাংলার থেকে ৭জন পাবেন এই সম্মাননা।

পশ্চিমবঙ্গের এই ৭ জনের মধ্যে অন্যতম হলেন কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ, অর্জুন পুরস্কার জয়ী খেলোয়াড় মধ্যমগ্রামের মৌমা দাস, শান্তিপুরের তাঁতশিল্পী বীরেনকুমার বসাক, সাঁওতাল সমাজের গুরুমা কমলি সোরেন, সাহিত্য ও শিক্ষা অবদানের জন্য ধর্মনারায়ণ বর্মা, সুজিত চট্টোপাধ্যায়, জগদীশচন্দ্র হালদার এবং আরও দু’ জন বাঙালি বিদেশি বিভাগে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান পাচ্ছেন। এঁরা হলেন মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল কাজি সাজ্জাদ আলি জাহির এবং সংগীত বিশেষজ্ঞ সনজিদা খাতুন।

কর্নেল কাজি সাজ্জাদ আলি জাহির এবং সনজিদা খাতুন হলেন বাংলাদেশের বাসিন্দা। এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখ যোগ্য হলেন স্বনামধন্য কার্টুনিস্ট নারায়ণ দেবনাথ। যার অমর সৃষ্টি হাঁদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে কিংবা বাঁটুল দ্য গ্রেটের মতো কমিক্স ছোটো থেকে বড় সবারই মন কেড়েছেন। অনেকের কাছে আবার ডিপ্রেশন এর বড়ো বন্ধুও বটে।

প্রত্যেক দিনের সকাল, দুপুর, বিকেলে টিভির সামনে বাচ্চাকে বসিয়ে দিয়ে ওদের দুষ্টুমি থেকে নিস্তার পান অনেক মাও। কলকাতার বাজারে এনিমেশন আসার অনেক আগে থেকেই বই আকারে হাঁদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টে কিংবা বাঁটুল দ্য গ্রেটের মতো চরিত্রদের রমরমা চলে আসছে।

এতো দিন পর সেই কমিক্স সৃষ্টিকর্তা, “পদ্মশ্রী” সম্মানে ভূষিত হতে চলেছেন, যা আপামর বাঙালির কাছে আনন্দের ও গর্বের বিষয়। সোমবার দুপুরে দিল্লি থেকে ফোন আসার পরই আনন্দে মেতে ওঠে সারা বাড়ি। সাথে বাংলার মানুষের মনেও সেই আনন্দের ছোঁয়া এসে লাগে। তিনকাল গিয়ে এককাল ঠেকা ৯৮ বছরের মানুষটি বর্তমানে বার্দ্ধক্য জনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু জীবিত অবস্থাতেই তিনি যে সম্মান পেলেন তা বড়োই সৌভাগ্যের।

কারন ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে, মৃত্যুর পরই বেশিরভাগ গুণী ব্যাক্তি তাঁর যোগ্য সম্মানে পুরস্কৃত হয়েছেন। কালের নিয়মে সবাইকেই এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে যেতেই হয়। ব্যাক্তির ভালো কাজের জন্য মনে রাখে সবাই। ফলে স্রষ্টা লাভ করে তাঁর অমরত্ব। আর সেই গুণের স্বীকৃতি দেওয়ায় খুশি গোটা দেবনাথ পরিবার। তিনি নিজেও জানিয়েছেন যে, দেরিতে হলেও তিনি আজ খুব খুশি তাঁর যোগ্য সম্মান পেয়ে।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: