হালিশহরের বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের জেলা থেকে ফিরতে হল ব্যর্থ মনোরথে

HnExpress দেবাশিস রায়, হালিশহর : বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর হালিশহর পুরসভার প্রধান অংশুমান রায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থার চিঠি দিয়েছেন ১১ জন কাউন্সিলর। আর তাতেই হইচই পড়ে যায় এলাকা ও জেলাস্তরে। এরও আগে ১০ সেপ্টেম্বর পুরপ্রধানের ঘরের সামনে বিক্ষোভও দেখান এই কাউন্সিলররা। সেসময়ই তৃণমূলের জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কাউন্সিলরদের বলেছিলেন আলোচনায় বসবেন। কিন্তু ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও তিনি সময় করে উঠতে পারেননি বলে সূত্রের খবর। স্বভাবতই ওই বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা পুরপ্রধান এর বিরুদ্ধে অনাস্থার প্রস্তাব আনেন ২০ তারিখে। তাঁদের অভিযোগ, পুরপ্রধান কাউন্সিলরদের গুরুত্ব দেন না। দাম্ভিকতায় ভোগেন। প্রসঙ্গত, পুরপ্রধান হালিশহর টাউন তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতিও। এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছিল আগের খবরেই।

ছবিতে কাউন্সিলর বন্ধুগোপাল সাহা

অবশেষে আজ রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ওই কাউন্সিলরদের ডেকে পাঠান জেলা সভাপতি। সেই মতো তাঁরা পৌঁছে গেছিলেন জেলা তৃণমূলের অফিসে। সেখানে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে কী আলোচনা হয়েছে তা বলতে চাননি ওই কাউন্সিলরদের কেউই। কাউন্সিলর বন্ধুগোপাল সাহাকে এবিষয়ে জানতে চেয়ে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আপনারা তিল হলে তাল বলেন। আপনাদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে কিছু জানাবো না। একথা বেশ রাগতস্বরে বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। বন্ধুগোপালবাবুর কথারই রেশ ধরে আরেক কাউন্সিলর তথা হালিশহর পুরসভার সিআইসি সদস্য মৃত্যুন্জয় দাস বলেন, এলাকায় দলের কর্মসূচি নিয়ে কথা হয়ে। তবে অনাস্থা নিয়ে যা বলার তা কাউন্সিলরদের ফোরামই বলবে। আমি কোনও সংবাদমাধ্যমকে এবিষয়ে কিছু বলবো না।

ছবিতে সিআইসি মৃত্যুন্জয় দাস

এদিকে বিশেষ সূত্রের খবর, সব শুনে জেলা সভাপতি পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থার বিষয়ে যথেষ্টই ক্ষুব্ধ। তিনি কাউন্সিলরদের মিলেমিশে দলের কাজ করার আহ্বান জানান। আরও জানা গেছে, দলের কোনও অনুমোদনই নেই এই অনাস্থা প্রস্তাবে। আলোচনা সভায় উঠে এসেছে দলের সভাপতি সুব্রত বক্সির নামও। তিনি নাকি ফোনে কাউন্সিলরদের বলেছেন, কোনও পুরপ্রধান বা পন্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে গেলে দলের সুপ্রিমো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বা যুব তৃণমূল সভাপতি সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির অনুমতির প্রয়োজন।

দরকার জেলা সভাপতির অনুমোদনও। কিন্তু এসবের কোনওটাই না থাকায় ব্যর্থ মনোরথেই ফিরতে হয়েছে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হালিশহরের ১১ কাউন্সিলরকে। একথার সত্যাসত্য বুঝতে পারা গেছে বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের আচরণেই।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: