অধীর কি তবে বিজেপি-তে পা বাড়াচ্ছেন!

HnExpress দেবাশিস রায় : অধীর চৌধুরীকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে সোমেন মিত্রকে সভাপতি করেছেন রাহুল গান্ধী। এর আগে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি সীতারম কেশরীর নির্দেশে ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ প্রণব মুখোপাধ্যায়, সোমেন মিত্র-র সঙ্গে আলোচনা করে মাত্র তিনদিন আগে নতুন নির্বাচন কমিটি ঘোষণা করেন। যে কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখা হয় ‘প্রদেশ ইলেকশনিয়ারিং কমিটি’-র চেয়ারম্যান হিসাবে। ঠিক সেরকমই ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের মাস ছয়েক আগে ২১ বছর বাদে ফের প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদে সোমেন মিত্রকে আনা হয়েছে। সেসময় শুরুতে মমতা ভেবেছিলেন, তাঁকে বুঝি বড় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছ। মনোনয়ন দেওয়ার অধিকার থাকবে তাঁর কাছে। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন ‘ইলেকশনিয়ারিং’ কমিটি বলে কংগ্রেসে কস্মিন কালে কিছু নেই। সীতারাম-প্রণববাবু-সোমেন মিত্র মিলে মমতাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করেছেন। এর পর বেশিক্ষণ সময় নেননি মমতা। ২২ ডিসেম্বর বিকেলেই কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। পাশাপাশি কংগ্রেস মমতাকে বহিষ্কারও করে। আর ততক্ষণে সাংবাদিক বৈঠক করে দল ছাড়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করে দিয়েছিলেন মমতা। আজ ঠিক একুশ বছর পর ইতিহাসের অদ্ভুত সমাপতন। সেই সোমেন মিত্র হলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। আর প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে অধীর চৌধুরীকে করা হল ক্যাম্পেইন কমিটির চেয়ারম্যান!

নতুন প্রদেশ কংগ্রেসের কমিটি গঠন নিয়েই পরিষ্কার, উনিশের ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তায় হাঁটতে পারেন রাহুল গান্ধী। শেষমেশ যদি তাই হয়, তা হলে সেই প্রদেশ কংগ্রেসের প্রচার কমিটির নেতৃত্বে নির্ভেজাল মমতা বিরোধী নেতা অধীর চৌধুরী নিজেকে মানিয়ে নিতে কি পারবেন?

নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার আগে ও পরেও অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, মমতার বিরোধিতা করার প্রশ্নে আমি আপসহীন। একুশ বছর আগে মমতা যখন দল ছেড়েছিলেন, তখন তা আপাত দৃষ্টিতে তাৎক্ষণিক হলেও সলতে পাকানো শুরু হয়ে গিয়েছিল পাঁচ মাস আগে থেকেই। ইদানীং রাজ্য-রাজনীতিতেও জল্পনা যে অধীর চৌধুরী বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। গত মাস কয়েক ধরেই এই জল্পনা চলছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ সেই জল্পনা উসকে দিয়েছে। তা ছাড়া বিজেপি পরের কথা, ঘরোয়া আলোচনায় সঙ্ঘ পরিবারের একাংশ নেতা তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষ বাংলা বনধের দিনও বলছেন, অধীরবাবু বিজেপি-তে যোগ দিতে রাজি থাকলে সব শর্তে রাজি। শুধু তাঁদের একটাই চিন্তা, সে ক্ষেত্রে অধীরবাবু তাঁর চার বারের জেতা লোকসভা কেন্দ্র ধরে রাখতে পারবেন কিনা! কারণ, বহরমপুরে ৪৮ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে।

কিন্তু অধীরবাবু? তিনি কী বলছেন? প্রদেশ কংগ্রেসের নতুন কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর তাঁর বিজেপি-যোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রশ্ন যে উঠবে তা কারও অজানা ছিল না। তাই সেদিন তিনি বলেছিলেন, কংগ্রেসের সংগঠনে রদবদল হয়। এটা নতুন ঘটনা নয়। কেউ সারাজীবন এক পদে থাকেন না। সঙ্গে এও বলেছেন, মাথা উঁচু করে রাজনীতি করেছি। বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন? রাজনীতিতে মেজাজি অধীর চৌধুরী বরাবরই সোজাসাপ্টা। তেমন কোনও ভনিতা নেই। নেই কোনও হেঁয়ালিও। এটা যেমন ঠিক। তেমনই ঠিক রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা। কোনও কিছুই অসম্ভব নয়।

কিন্তু দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে অনেক কিছুই তো ঘটতে পারে! বিজেপি-তে যোগ দেওয়াই একমাত্র বিকল্প নয়। ভুলে গেলে চলবে না, দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়ে জিতিয়ে আনার ক্ষমতা দেখিয়েছেন অধীরবাবুই। অধীরবাবুর ঘনিষ্ঠরা বলছেন, সেই সম্ভাবনাও কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অধীরবাবুকেও প্রশ্ন করা হয়েছিল, উনিশের ভোটে কংগ্রেস যদি তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায়, আপনি কী করবেন? জবাবে তিনি একাধিকবার বলেছেন, নতুন উত্তর আর কী দেব? আমার অবস্থান সবাই জানে। আর আজ বৃহস্পতিবার ২৭ সেপ্টেম্বর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মমতার সরকার অগণতান্ত্রিক। গণতন্ত্র ওঁদের ধাতেই নেই।

1 thought on “অধীর কি তবে বিজেপি-তে পা বাড়াচ্ছেন!

  1. অধীর যদি বিজেপিতে যোগদান করেন তাহলে কংগ্রেসের সমাপতন আসন্ন ।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: