বন্ধ রাখার নির্দেশ সুকান্ত সেতুর ক্র্যাশ বেরিয়ার

HnExpress সম্রাট গুপ্ত, কলকাতা : শেষ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হল যাদবপুরে সুকান্ত সেতুর ওপর নির্মীয়মান ক্র্যাশ বেরিয়ার তৈরির কাজে। মাঝেরহাট দুর্ঘটনার পর গত বৃহস্পতিবার HnExpress ডিজিটাল মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছিল যাদবপুর সেতুর ওপর এই নির্মাণকাজের শঙ্কার খবর। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি এড়াতে পূর্ত দফতর এই কাজ বন্ধের নির্দেশ দিল। প্রশ্ন উঠছে, এই অবৈজ্ঞানিক কাজের দায় কে নেবে? যে লক্ষ লক্ষ টাকার অপচয় হল, তা তো আমজনতার টাকা!

কংক্রিটের ক্র্যাশ ব্যারিয়ার ঘিরে প্রশ্ন উঠছিল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। বাড়তি এই চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সেতুর আছে কি? মাঝেরহাট সেতুর দুর্ঘটনা না ঘটলে তো এত বাড়তি চাপ চেপে যেত সেতুর ওপর। প্রশ্ন উঠছে, এত হেলাফেলা করে, বিজ্ঞানসম্মত পরীক্ষা না করেই কিভাবে এ রকম অতিরিক্ত নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন পূর্তকর্তারা? এগুলি কি ঠিকাদার-রাজনীতির অশুভ আঁতাতের ফল?

সুকান্ত সেতু তৈরির কয়েক বছর পর এর ওপর দিয়ে যাওয়া সন্তোষপুরগামী একটি মিনিবাস রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে যায়। আহত হন যাত্রীরা। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় বাঙুর হাসপাতালে। অতীতে অন্য সেতুতেও এ রকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যদিও পূর্তকর্তাদের দাবি, এই আশঙ্কা রুখতেই নাকি কিছু সেতুর ওপর ক্র্যাশ বেরিয়ার তৈরি হচ্ছিল।

১৯৮৫ সালের আগস্ট মাসে রাজা সুবোধ মল্লিক রোডের সঙ্গে পূর্ব যাদবপুরের সংযোগকারী এই উড়ালপুল তৈরি হয়। এ ব্যাপারে মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় ও কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি সেতুর মুখে এক স্মরণসভায় প্রয়াত সোমনাথবাবুর সেই অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন কান্তিবাবু। লাগোয়া কুমুদশঙ্কর রায়ের নামাঙ্কিত যক্ষা হাসপাতালে মারা গিয়েছিলেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর নামে চিহ্ণিত হয় সেতুটি। এর পরিকল্পনা হয় গত শতকের আশির দশকের গোড়ায়। তখন যে ক‘টা গাড়ি চলত এই সেতুর ওপর দিয়ে, এখন তা শতগুন বেড়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের দাপটে সেতুটি হয়ে উঠেছে আঁকাবাঁকা বাইপাস কানেকটর।

সেতুর রাস্তার ওপর ক্রমাগত সংস্কারে ও পিচের আচ্ছাদনে, ফুটপাথের ধারে বড়, ভারি স্ল্যাবে ওজন বেড়েছে। তার ওপর প্রায় তিন ফুট উঁচু, নিচের প্রস্থ ১৪ ইঞ্চি, ওপরদিক ৬ ইঞ্চির যে বেরিয়ার তৈরি হচ্ছে, তাতে সেতুর ওপর চাপ প্রবল বাড়বে।

এ ব্যাপারে আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা কমল বিশ্বাসও। ৬২ বছরের কমলবাবু আজন্ম সেতুর কাছেই থাকেন। তাঁর অভিযোগ, সেতুর এক ধারে গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই একাধিক লরি সব সময় মজুত থাকে। এখান থেকেই চলে বাড়ি বাড়ি সিলিন্ডার সরবরাহের ব্যবসা। সেতুর তত্বাবধায়ক পূর্ত দফতর চোখ বন্ধ করে আছে। কোনওদিন নাশকতা বা দুর্ঘটনা হলে এ ওর ঘাড়ে দায় ঠেলবে।

ঘটনাস্থলে কাজ চলছিল ক্র্যাশ বেরিয়ারের। ইঞ্জিনিয়ারদের মতে কংক্রিটের গাঁথনির বদলে জাতীয় সড়কের পাশে ইস্পাতের ক্র্যাশ ব্যারিয়রের মত প্রাচীর দিলে খরচ, নির্মাণের সময় এবং ভার—সবই কম হত। কেন তা হল না তার যুৎসই উত্তর মেলে নি। প্রচুর ফুটপাথের টাইলস ও বালি- স্টোন চিপস সেতুর নানা অংশে বিভিন্ন জায়গায় স্তূপ করে রাখা। সেতুর এক ধারে ফেন্সিং ভীষণভাবে ক্ষয়ে গিয়েছে। নিচে নানা জায়গায় সেতু থেকে জল চুঁইয়ে পড়ছে।

প্রশ্ন উঠেছে, কবে এ সব সরিয়ে নিরাপদ ও দৃষ্টিনন্দন করা হবে সুকান্ত সেতুকে। পূর্তকর্তারা অবশ্য দাবি করেছেন, শীঘ্রই ওসব মেরামতি করা হবে। তবে কবে, কতটুকু তা হবে, সে ব্যাপারে সংশয় অনেকেরই।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: