সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে সঠিক ডায়েট চার্ট অনুসরণ করুন, ডাঃ বরুন মজুমদার

HnExpress ওয়েবডেক্স নিউজ ঃ সুস্থ রাখতে যে বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হবে, তা হলো—বয়স, ওজন, শারীরিক অসুস্থতা, পরিশ্রম ও ব্যায়াম। ডায়েট সুস্বাস্থ্যের জন্য তাই সঠিকভাবে ডায়েট চার্ট কি ভাবে ফলো করতে হয় তাই নিয়ে লিখেছেন বরুন মজুমদার।
আধুনিক সময়ে তরুণ-তরুণীরা স্বাস্থ্য বিষয়ে বেশ সচেতন। বিশেষ করে শরীরে মেদ নিয়ে আসতে রীতিমতো যুদ্ধ শুরু করে দেন। শুরুতেই একাধিক ডায়েট পরিকল্পনা করেন। কিন্তু ডায়েট অনুসরণ করার কিছুদিন পর থেকেই শরীরে অবসন্নভাব চলে আসে। সুস্থ থাকার জন্যই তো ডায়েট।

কিন্তু ভুল ডায়েটের জন্য তা যদি বিপত্তি ঘটায়? তাই মনে রাখতে হবে, তারুণ্যের সময়টা শরীর ও মন দুটোই পাখা মেলতে থাকে। সেইসাথে বাড়ে কাজ আর পড়াশোনার চাপ। এদিকে বাঙালিরা বরাবরই একটু খেতে ভালোবাসে, সুস্বাদু খাবার সামনে পেলেই ভুলে যায় পরিমিত খাবার খাওয়ার বিষয়টি। সপ্তাহে প্রতিদিন হাজার চেষ্টা করেও কাজ হবে না যদি কিনা আমরা খাবার খাওয়া নিয়ে সচেতন না হই।পরিশ্রম এবং বয়সের ওপর নির্ভর করে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকা করে নিলে বাড়তি খাওয়া এবং অসময়ে খাওয়ার প্রবণতা কমে আসবে।

দুপুরে ভরপেট খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মন চায় প্রিয় কোনো খাবার খেতে। আবার কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরে ভাত, মাছ, ডাল, তরকারি যাই হোক না কেন খেয়ে ফেলেন অনেকেই। বাইরে মেঘলা আকাশ, ঝিরঝিরে বৃষ্টি। বিকেলের চায়ের সাথে ভাজা পোড়া হলে মন্দ হয় না। এছাড়া আছে, কয়েকদিন অফিসে কাজের চাপ। আর তা থাকলেই কফি আর ফাস্টফুডের ওপরই ভরসা করতে হয়। এককথায় বলা যায় খেতে আমরা সবাই ভালোবাসি।

তবে কোন খাবারে কত ক্যালরি তার হিসাব কষে খেয়ে থাকেন যারা মেদহীন সুস্থ শরীর চান এমন মানুষেরাই। সুস্থতা ও শারীরিক বৃদ্ধির জন্য ডায়েট তালিকায় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও ফ্যাট থাকা খুবই জরুরি। নিম্নে এমনই কিছু ডায়েট চার্ট বা খাদ্য তালিকার সহজাত বিবরণ দেওয়া হলো।

প্রাতঃরাশ ঃ—

সকালটা শুরু হতে পারে একগ্লাস গরম দুধ দিয়ে। তার একঘণ্টা পর একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে বাইরে বেরোবার আগে হাল্কা একটু টিফিন করাটা বাঞ্ছনীয়। সেক্ষেত্রে দুটি টোস্ট ও ডিম খাওয়া যেতে পারে। তবে রুচি বদলাতে হালুয়াও চলতে পারে। বাইরে যাওয়ার আগে ঘরের তৈরি খাবার সঙ্গে নেওয়াই ভালো। এতে করে জাঙ্ক ফুড এড়ানো সম্ভব হয়।

দুপুরে হালকা খাবার ঃ—

দুপুরের খাবারে সবজি-রুটিই উপাদেয়। সেক্ষেত্রে দিবানিদ্রার সম্ভাবনাও খানিকটা কমে যায়। শেষ দুপুরে আবারও রুটি বা পাস্তা খেতে পারেন। তবে এমনও নয় যে দুপুরে ভাত খেতেই পারবেন না। মাছ, মাংস যাই খান সাথে সবজির উপস্থিতিটা থাকা বাঞ্ছনীয়। স্যালাদ থাকলে আরও ভাল।

বিকেলের টিফিন ঃ—

বিকেলে এক টা স্লাইস খেতে পারেন। আবার একগ্লাস দুধও যোগ করতে পারে আপনার খাদ্য তালিকায়। সন্ধ্যায় ঘরে বানানো খাবার হাল্কা জাতীয় কিছু খেতে পারেন। আবার শুধু কিছু ফলমূলও খেতে পারেন।

রাতের খাবার ঃ—

রাতের খাবারটা আমাদের তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত। এটা আমরা সব সময়ই ভুলে যাই। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে সেরে নিতে পারেন ডিনার। রুটির পাশাপাশি ভাতও খেতে পারেন।

সময় মত ঘুমও বিশেষ গুরুত্ব পুর্ণ সুস্বাস্থ্যের জন্য। বেশি রাত জাগবেন না। আর পারলে চিনি ছাড়া একগ্লাস লস্যি খেয়ে রাত ৯টার মধ্যে শুয়ে পরাই ভালো।

শুধু খাদ্যাভ্যাস নয় সাথে কিছু ঘড়োয়া ব্যায়ামও করতে হবে। বয়ঃসন্ধির সময়েই শরীরের হাড় অর্ধেক গঠিত হয়ে যায়। আর ব্যায়াম কিন্তু মেদ ঝরায়। নিজেকে ভালোবাসুন, পরিমিত খেয়ে সুস্থ থাকুন। আর খাদ্য তালিকা তৈরির সময় যে বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হবে, তা হলো—বয়স, ওজন, শারীরিক অসুস্থতা, পরিশ্রম ও সহজাত ব্যায়াম।

Leave a Reply

%d bloggers like this: