পিআইবি আয়োজিত ‘বার্তালাপ’ আলোচনা সভায় উঠে এল সংবাদপত্রের ২০০ বছর

HnExpress বিশেষ সংবাদদাতা, ব্যারাকপুর ঃ চলে যেতে বসা এই বছরটা সাক্ষী হয়ে থাকল ঐতিহাসিক একটা ঘটনার ২০০ বছরের। নীরব এই সত্যটা প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর (পিআইবি) এক আলোচনা সভায় আজ মনে করিয়ে দিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক অশোক সেনগুপ্ত। আজ ‘বার্তালাপ’ নামে এই সভায় আর এক প্রবীন সাংবাদিক রথীন্দ্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় উজার করে দিলেন তাঁর অভিজ্ঞতার বরনডালা।

“বার্তালাপ” নামক পিআইবি -র এই আলোচনাসভা বসেছিল, বারাকপুরের গান্ধী মেমোরিয়াল সংগ্রহশালায়। এদিন এই সভায় শ্রোতা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মূলত উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সুপরিচিত সাংবাদিকরা। সেখানেই অশোকবাবু শোনালেন ২০১৮ সালে সামান্য ব্যবধানে ‘দিগদর্শন‘ আর ‘সমাচার দর্পনের’ জন্মকাহিনী। জানালেন, কেবল বাংলা সংবাদপত্রের নয়, বছরটা এর হাত ধরে যে কোনও ভারতীয় ভাষায় সংবাদপত্রের ২০০ বছর স্মরণ করল। এই প্রসঙ্গে কলকাতা প্রেস ক্লাবের দুটি সঙ্কলনের উল্লেখ করেন অশোকবাবু। তিনি জানান ১৭৮০-র ২৯ জানুয়ারি ‘বেঙ্গল গেজেট’-এর জন্মের কথা ও এর জন্মদাতা জেমস অগস্টাস হিকির সংগ্রাম আর কারাবাসের কাহিনীও।

মূল অনুষ্ঠানের পরে লাইভ তীতুমীর সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ধৃতরাষ্ট্র দত্ত বললেন, ২০০ বছর বাদেও আমরাও ওই হিকির মতই অনবরত সংগ্রাম করে চলেছি প্রকাশনা চালাতে গিয়ে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের কোনও আনুকূল্যই পাচ্ছি না। পিআইবি-র অতিরিক্ত মহানির্দেশক (এডিজি) জেন নামচু-র উদ্দেশে তিনি আবেদন করেন, যাতে জেলার সংবাদপত্র ও সংবাদমাধ্যম গুলি বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়েই যেন স্বতস্ফূর্ত ভাবে সঠিক তথ্যসহকারে সব ধরনের সংবাদ পরিবেশন করতে পারে তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কোন সরকারি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

এবং এই কাজটি যথেষ্ট ন্যায়সংগত ভাবে যাতে সম্পূর্ণ করা যায় তার একটি আবেদন জানিয়ে পি আই বি’কে তিনি বললেন “আপনারা আমাদের এই নিঃস্বার্থ ও নিরপেক্ষ সংগ্রামে সহযোগিতা করুন।” এছাড়াও মূল্যবান কিছু কথা বললেন আজকালের সাংবাদিক উদয় বসু।

সভায় রথীন্দ্রবাবু তাঁর সাংবাদিক জীবনের নানা অভিজ্ঞতার কথা শোনান। নবীন সাংবাদিকরা ঋদ্ধ হন তাঁর মূল্যবান সেই অভিজ্ঞতায়। পাঁচ দশক ধরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি প্রায় সিকি শতক ধরে সাংবাদিক তৈরির নানা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এলাহাবাদ ব্যাঙ্কের এক বরিষ্ঠ কর্মকর্তা দীপক দে জানালেন, ব্যাঙ্কের ঋণ নিয়ে তা শোধ না করার প্রবণতা কীভাবে ক্ষতি করছে ব্যাঙ্কশিল্প এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির। ব্যাঙ্কের কত রকম ঋণ রয়েছে, তার ওপরেও আলোকপাত করেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে পিআইবি-র আধিকারিক চিত্রা গুপ্ত ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সংযোজনার দায়িত্বে ছিলেন পিআইবি-র শ্রীজাতা সাহা। পিআইবি -কে তাই অনুজ সাংবাদিকদের তরফে অভিনন্দন দুই বর্ষীয়ান সাংবাদিকের অভিজ্ঞতা অনুজদের শোনার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: