শতবর্ষে পদার্পণ করল ওয়েসলি চার্চ, দমদম

HnExpress নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : মধ্য কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি রোডের ৫৬ নম্বর বাড়িটিতে অবস্থিত কলকাতার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান অসমন্দ মেমোরিয়াল চার্চের তত্ত্বাবধানে ১৯১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল উত্তর কলকাতার ২০ নম্বর ইউ.কে. রোডের ওয়েসলি মেথোডিস্ট চার্চ। এই ঐতিহ্যশালী গির্জার তৎকালীন কর্তৃপক্ষ পান্নালাল দাসকে অনুরোধ করেছিলেন বাঁকুড়া ও সারেঙ্গা থেকে আগত কিছু তরুণকে গির্জার বিভিন্ন কাজে ও ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টের জীবিত বাক্য বাইবেল লিখিত সুসমাচার প্রচারের জন্য প্রত্যক্ষভাবে কাজে লাগানোর জন্য।

অরুণকুমার বিশ্বাস,  অরুণ দাস ও  বনজ ব্যানার্জি-র মতো বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা তদানীন্তন সময়ে শুধুমাত্র সেই গির্জার আভ্যন্তরীণ সহযোগীই ছিলেন না, সরাসরি গির্জার উন্নতিকরণ করার স্বার্থে এবং জীবিত ঈশ্বরের পবিত্র বাক্য, যার দ্বারা পাপী মানুষ পরিত্রাণ পেতে পারে এবং অনন্ত জীবনের অধিকারী হতে পারে তার বার্তা জনসাধারণ এর কাছে পৌছে দেওয়ার স্বার্থে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। 

১৯৭০ সালে ‘দ্য ওয়েসলিয়ন মেথোডিষ্ট চার্চ’ নাম পরিবর্তন হয়ে, নতুন নামকরণ হল ‘ওয়েসলি চার্চ’ এবং প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি চলে আসল উত্তর ভারতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান বারাকপুরের ‘ডায়োসিস চার্চ’ -এর অধীনে। তৎকালীন এই প্রতিষ্ঠানের (সি.এন.আই.) তত্ত্বাবধায়ক বিশপ রেভারেন্ড ডঃ ডি.সি.গড়াই এবং ভূতপূর্ব বিশপ রেভারেন্ড ব্রজেন মালাকার কিছু তরুণ সহযোগীকে নিয়ে গির্জার দেখভাল ও জীবিত ঈশ্বরের মনোনিত সন্তান স্বরুপ তাঁর জীবিত ও পবিত্র বাক্য প্রচার করতে থাকেন। 

পরবর্তীকালে গির্জার সকল সদস্যদের মধ্যে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি বড় গির্জার প্রয়োজন অনুভব করেন। আর সাথে সাথেই সেই মহৎ উদ্দেশ্যকে সফল করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় বারাকপুর ডায়োসিস চার্চ ও উত্তর কলকাতার দমদমে অবস্থিত ‘প্যাসট্রোনেট কমিটি’। ক্রমশ গির্জাটি নবরূপে নবসাজে সজ্জিত হতে থাকে।

তৎকালীন সময়ে সামগ্রিকভাবে দমদম প্যাসট্রোনেটের আনুকূল্যে ওয়েসলি চার্চ ঘিরে ছিলেন কিছু তরতাজা তরুণ এবং যুব সমাজের দ্বারা পরিচালিত সানডে স্কুল। তাঁরা শুধুমাত্র সাপ্তাহিক প্রার্থনাসভাই পরিচালনা করতেন তা নয়, নিজেদের মধ্যে উন্নততর আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের আত্মিক জীবন ও এই প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যাবতীয় পরিকল্পনা তৈরি করতেন।

গতকাল, একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কর্তৃপক্ষ জানান, এই বছর ২ অক্টোবর ( ২০১৮ )-তে সেই ঐতিহ্যমন্ডিত গির্জার শততম বর্ষ মহাসমারহে এবং গীর্জার কয়ারমন্ডলীর সুমধুর কন্ঠে ঈশ্বরের আরাধনা সঙ্গীত, পবিত্র বাইবেল শাস্ত্র থেকে বাক্য পাঠ ও জীবিত ঈশ্বর যীশু খ্রীষ্টের ভজনা, আরাধনা, উপাসনার মধ্য দিয়ে পালন করা হল। স্মরণ করা হল সেই সমস্ত প্রাক্তনীদের যাঁরা কঠিন অধ্যবসায় ও পরিশ্রম করে আগলে রেখেছিলেন এই প্রতিষ্ঠানটিকে এবং অবশ্যই বর্তমান সদস্যদের যাঁদের অকৃত্রিম সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হয়। যাদের মধ্যে অন্যতম হল, স্বর্গীয় অর্পণ মন্ডল, স্বর্গীয় প্রশান্ত দাস, স্বর্গীয় অলোক সিং, স্বর্গীয় রতন বার, স্বর্গীয় হিতেন নাথ প্রমুখ। 

এদিন অনুষ্ঠানে চার্চের ১০০ তম জন্মদিবসের উপর একটি প্রসপেক্টাস এর উন্মোচন করেন ব্যারাকপুর ডায়াসিসের অন্যতম রেভাঃ বিশপ পরিতোষ ক্যানিং।  এঁনাদের প্রত্যেকের পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতায় আজ এই প্রতিষ্ঠানটি উন্নততর করা সম্ভব হয়েছে, বাংলার সর্বজনগ্রাহ্য ঐতিহ্যশালী একটি ঈশ্বর পরিচালিত পবিত্র মন্ডলী রূপে পরিচিতি পেয়েছে।

অনুলিখন : দেবনাথ চক্রবর্তী।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: