পেটে অন্ন-জল ও মুখে হাসি, প্রান্তিক মানুষের পাশে আছি

HnExpress নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসাত ঃ গতকাল মুড়াগাছা তেঘোড়িয়া শশীভূষন হাই স্কুল সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা এবং একদা ফুটবল খেলোয়ার তথা ফুটবল শিক্ষক প্রয়াত চন্দন বসুর শ্রাদ্ধকর্ম ছিল। যেখানে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ণের পরেও বেঁচে যায় অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জনের মত পেট ভর্তি খাবার। আর আজকের দূর মূল্যের বাজারে যার মূল্য অপরিসীম। তাই সেই বেচে যাওয়া খাওয়ারের অপচয় না করে স্বর্গীয় চন্দন বসু’র পুত্র সায়ন্তন বসু’র নেওয়া চকিত সামাজিক দায়বদ্ধতার এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তে, পেটে অন্ন-জল ও মুখে হাসি ফুটলো বারাসাত স্টেশনের ১ নং প্লাটর্ফমের বসবাসকারী সমাজের পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক বহু অভুক্ত মানুষের মুখে।

আর সেই অসাধারণ সামাজিক কাজকে স্যালুট জানাতে গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে, সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা খাটুনি ও কর্মব্যাস্ততার পরে ক্লান্ত শরীর নিয়েও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হৈ হৈ করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এল “মধ্যমগ্রাম আমার তোমার” সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ। সমাজের পিছিয়ে পড়া সেই সব আর্ত নিপীড়িত প্রান্তিক মানুষগুলির মুখে একটুকরো হাসি ফোটাতে খাওয়ারের প্যাকেট, পানীয় জল আর কাগজের থালা হাতে পৌঁছে গেলেন তাদের মাঝে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঁচন্দন বসু মহাশয়ের যোগ্য ছাত্র মহঃ রফিক আজ কলকাতার অন্যতম নামী খেলোয়াড়দের মধ্যে একজন। এছাড়াও তিনি মুড়াগাছা সংলগ্ন এলাকার জনপ্রিয় ক্লাব “শশীভূষন মিলন সংঘ” সহ ঘোলা অঞ্চলের “নেতাজী সংঘ” তথা “সোদপুর ক্লাব” এর একজন যথেষ্ট জনপ্রিয় ফুটবল শিক্ষক ছিলেন। অনেক উঠতি খেলোয়ার তৈরী হয়েছেন তার একান্ত নিষ্ঠা ও শিক্ষকতায়। কিন্তু মারন রোগ ক্যান্সারের তীব্র মৃত্যু যন্ত্রণা অতি অল্প সময়েই কেড়ে নিলো তার বহু মূল্য প্রান ভ্রমর। তবুও উনি তাঁর ফেলে রেখে যাওয়া কৃত্তির মাঝে চিরকাল এমনভাবেই বেঁচে থাকবেন তাঁর প্রতিটি ছাত্রের হৃদ মাঝারে সমাজের দৃষ্টান্ত স্বরুপ জ্যোতি হয়ে।

সায়ন্তন বসু ও তাঁর স্বর্গীয় পিতৃদেবের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যকে সফল করতে এগিয়ে আসল মধ্যমগ্রাম সংলগ্ন এলাকার এবং সবার কাছের মানুষ প্রিয়াঙ্কা দে ও মধ্যমগ্রাম আমার তোমার সোশ্যাল গ্রুপের কিছু সদস্যরা। সকলের যৌথ উদ্যোগে গতকাল এই সুন্দর ও গঠনমূলক কাজটি সম্পন্ন হল অত্যন্ত সুষ্ঠ ভাবেই। আগামী দিনেও বহু সমাজসেবা মূলক কাজের মধ্যে দিয়ে সুস্থ সমাজ গড়ে তোলার লক্ষের পথে এগিয়ে যেতে অঙ্গীকারবদ্ধ “মধ্যমগ্রাম আমার তোমার” সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের প্রতিটি সদস্য-সদস্যা। তাদের একটাই স্লোগান : “কথায়নয়কাজে_আছি”।

এর পাশাপাশি তারা গ্রুপের পক্ষ থেকে একটি মানবিক আবেদন রেখেছেন মধ্যমগ্রাম ও বারাসাত এর সকল শহরবাসীর কাছে; আপনার ও আপনার পরিচিত ব্যক্তির অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া খাবার, পানীয়, হাসি ফোটাতে পারে – সমাজের অভুক্ত মুখ গুলোতে। তাই সেগুলো অযথা নষ্ট বা অপচয় না করে বরং তুলে দিন আমাদের হাতে মানবিকতার স্বার্থে। আজও বহু মানুষ ক্ষিদে মেরে, পেট চেপে অবহেলিত হয়ে শুয়ে থাকেন পথের ধারে। আসুন না আমরা তাদের জন্য শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে বসে আহা উঁহু না করে বা দুঃখ দুঃখ পোস্ট করে সমবেদনা প্রকাশ না করে, শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে বীরত্ব না দেখিয়ে রাস্তায় নেমে তাদের পাশে দাঁড়াই প্রকৃত সমাজসেবা করতে, তাদের অভুক্ত মুখে একটু অন্ন তুলে দিয়ে প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠতে।

যোগাযোগ মাধ্যম :- ‘মধ্যমগ্রাম আমার তোমার’ গ্রুপের এডমিন ও মডারেটর
মধ্যমগ্রাম আমার তোমার
Sonali Chowdhury
Surajit Chowdhury
Soumen Paul
ŚenḠuptä Ďệḅäṗriyä
Kajari Dutta
Mritunjoy Aditya
Sk Ina
Nabendu Biswas
Hiya Roy
Sanjay Spandan Paul
Ratna Ratna
Gautam Mukherjee.

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: