Sun. Feb 23rd, 2020

বেড সোর আসলে কি? জেনে নিন এক নজরে

HnExpress ওয়েবডেক্স নিউজ, স্বাস্থ্য সচেতনতা ঃ দীর্ঘ সময় ধরে হওয়া একটানা চাপের কারণে হাড়ের এলাকার উপরের ত্বকে এবং টিস্যুগুলিতে দেখতে পাওয়া প্রাদুর্ভাবকে বেড সোর বা প্রেশার সোর বলা হয়। এটি প্রাথমিকভাবে একই অবস্থানে একটানা বসা বা শুয়ে থাকার কারণে রক্ত সঞ্চালনের কমে যাওয়ার ফলে হয়ে থাকে। বেশিরভাগ ৭০ বছরের উপরের বয়সী মানুষের মধ্যে বেড সোর হতে শোনা যায়।

একটি ভারতীয় গবেষণা দেখায় যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৪.৪৯ শতাংশের বেড সোরের ব্যাপকতা আছে। ফলে ত্বকের গুরুতর ক্ষতি আটকাতে শীঘ্র চিকিৎসার প্রয়োজন।

এর প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি কি কি?

প্রাথমিক পর্যায়ে, আপনি একটানা চাপের কারণে এলাকাগুলিতে ত্বকের চকচকে, লাল দাগ দেখতে পারেন যেমন, শয্যাশায়ী রোগীদের পাছা এবং কাঁধের চামড়ায়। এটি ধীরে ধীরে ত্বকের উপরের আস্তরণের (এপিডারমিস) ক্ষতি করে এবং আলসারের সৃষ্টি করতে পারে।

যখন হাড়ের নীচের টিস্যুর উপর চাপ পড়ে, তখন ত্বক ফুলে যায় এবং ত্বকের সংবেদনশীলতা হ্রাস পায়। অবশেষে, এটি সংক্রমণ ঘটায় এবং ওই এলাকার টিস্যু নষ্ট করে।

এর প্রধান কারণগুলি কি কি?

যখন কাঁধের পিছনের দিক, টেইলবোন, পাছা এবং গোড়ালির মত অংশের উপর অতিরিক্ত এবং অনেকক্ষণ ধরে চাপ পড়ে তখন বেড সোরের সৃষ্টি হয়।

এই একইভাবে পড়া চাপ, রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করে যা ত্বকে অক্সিজেন এবং পুষ্টির সরবরাহকে হ্রাস করে। দীর্ঘ সময় ধরে পুষ্টি এবং অক্সিজেনের সরবরাহের ঘাটতির জন্য তা আলসারে পরিণত হতে পারে।

যেকোনো রকমের খবর ও বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ঃ ৮২৪০৯০২৪৪৫।

বেড সোর হওয়ার অন্যান্য কারণগুলি হল :

➤ শিয়ারিং ফোর্স, যেখানে ত্বক এবং আভ্যন্তরীণ টিস্যুর বিপরীতমুখী চলন ঘটে।

➤ ঘর্ষণজনিত আঘাত।

➤ মেরুদণ্ডে আঘাত।

➤ আর্দ্রতা যা ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি এবং আলসার হওয়ার জন্য দায়ী।

➤ জলের অভাব, পুষ্টির অভাব, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং স্থূলতার (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে) মতো অবস্থান গুলি।

➤ চলাফেরার কমতি (যেমন প্যারালাইসিস, পোস্ট অপারেশন)।

➤ হাড় ভাঙা সারাতে প্লাস্টার করা অবস্থায়।

রুগী যখন শয্যাশায়ী।

এটি কিভাবে নির্ণয় এবং চিকিৎসার দ্বারা নিরাময় করা সম্ভব ?

যদি আপনি বা যিনি আপনার যত্ন নিচ্ছেন তিনি আপনার শরীরে বেড সোর দেখতে পান তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে রয়েছে বেড সোরের এলাকার ওপর চাপ কম করতে সেই রোগীর অবস্থান পরিবর্তন এবং সেই সময় পুরোপুরি পরিচ্ছন্নতা এবং ক্ষতের ড্রেসিং করা। সংক্রমণ এর ক্ষেত্রে সাময়িক অ্যান্টিবায়োটিক গুলির পরামর্শ দেওয়া হয়। ক্ষত বা ঘায়ের প্রবলতার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসার সময়কাল ২ থেকে ৪ সপ্তাহ স্থায়ী হয়।

অবশেষে বলব, আপনি নিজেকে প্রেশার সোর হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারেন নিচে দেওয়া পদ্ধতিগুলির দ্বারা :

➤ হুইলচেয়ারে থাকাকালীন নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর আপনার ভার পরিবর্তন করুন।

➤ বিছানায় শুয়ে থাকাকালীন আপনার অবস্থানকে পরিবর্তন করুন।

➤ বিছানার চাদরে বারবার ঘষা লেগে যাতে বেড সোর না হয় তার দিকে লক্ষ্য রাখুন।

➤ নিয়মিত ত্বকের লক্ষ্য রাখুন।

➤ পরিষ্কার করার জিনিস গুলি দিয়েই ত্বক পরিষ্কার রাখুন।

➤ রুগী যদি একেবারে অথর্ব হয়, তবে তাঁকে হাওয়া বা জল ভরা মেডিকেটেড বেডে শোয়ানো উচিত।

➤ ত্বককে যতটা সম্ভব শুকনো রাখুন।

➤ পর্যাপ্ত পরিমাণে জল এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করুন।

তথ্যসূত্র ঃ বাংলা ম্যাগাজিন থেকে সংগৃহীত হয়েছে। চিত্র ঃ সোস্যাল মিডিয়া।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: