বিদেশ থেকে আগত হাওড়ায় ১৩০ জনকে রাখা হলো হোম কোয়ারেন্টাইনে

HnExpress ১৮ই মার্চ, অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া : “নোবেল করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব এখনও পর্যন্ত হাওড়ার কারো শরীরে মেলেনি। সাবধানতা অবলম্বনের জন্য জেলায় যাতে ওই মারণ ভাইরাস না ছড়ায় তার জন্য স্বাস্থ্য দফতর থেকে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে “হোম কোয়ারেন্টাইন” (সন্দেহজনক কাউকে বাড়িতেই পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছ থেকে পৃথক করে রাখা) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বিদেশ থেকে আগত হাওড়া জেলার ১৩০ জনকে “হোম কোয়ারেন্টাইনে” রাখা হয়েছে।

এক ১৩০ জনকে “হোম কোয়ারেন্টাইনে” রাখা প্রসঙ্গে হাওড়া জেলার স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারীকরা বলেন, ১৩০ জনের কারোর শরীরেই ওই ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলে নি। ২৮ দিনের মধ্যে “কোয়ারেন্টাইনে” থাকা এই ১৩০ জনের মধ্যে কারো শরীরে সন্দেহজনক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে তখনই হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে। “হোম কোয়ারেন্টাইনে” কাউকে কিভাবে রাখতে হবে, সেই প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য-সদস্যাদের দেওয়া হয়েছে।

হাওড়ার জেলা হাসপাতাল, সত্যবালা আই ডি হাসপাতাল ও উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে “আইসোলেশন ওয়ার্ড” এর শয্যা সংখ্যা যথাক্রমে ২০টি, ১০টি ও ৩০টি। সন্দেহজনক উপসর্গ অর্থাৎ জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ স্থানীয় হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলেই তাঁকে “আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে তার বা তাদের প্রতি বিশেষ নজরদারি করার ব্যবস্থা থাকছে।

হাওড়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারীক নিশীথ মন্ডল বলেন, “মানুষ অযথা আতঙ্কিত না হয়ে যাতে সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন, সেটা দেখাই আমাদের মূখ্য উদ্দেশ্য এই মুহুর্তে। চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে আমরা ওই ভাইরাসজনিত রোগের মোকাবিলায় সমস্ত রকম প্রস্তুতি নিচ্ছি”। জেলা জুড়ে সর্বত্র জোরদার প্রচার চালানো হচ্ছে। হাত না ধুয়ে যাতে মুখে-নাকে হাত না লাগানো হয়, যদি কারও কাশি হয় তাঁর সঙ্গে কথা বলার একান্ত প্রয়োজন হলে তার সঙ্গে কথা বলার সময় অন্তত এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

ভিড়ের মধ্যে কাশি হচ্ছে এমন কোন মানুষ থাকলে তাহলে অবশ্যই মাস্ক পরে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। হাওড়া জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজে, বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার গ্ৰামগুলিতে সচেতনতা শিবির করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এছাড়াও প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে “নোভেল করোনাভাইরাস” সম্পর্কিত পোস্টারও মারা হয়েছে। হ্যান্ডবিল বিলি করা হচ্ছে। তবে
হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই এই “নোভেল করোনা ভাইরাস” নিয়ে কি করণীয় এই বিষয় নিয়ে একাধিকবার সভা করা হয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল, নাসিং হোম ও প্যাথলজিক্যাল কেন্দ্রগুলির মালিক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিয়ে।

তাঁদের বলা হয়েছে, তাঁদের দৃষ্টিতে যদি কেহ কোন সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে কোনো পরীক্ষা ও চিকিৎসা করাতে আসে, তাহলে তৎক্ষণাৎ তাঁর পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর খাতায় নথীভুক্ত করেন। তারপর সেই তথ্য যতটা সম্ভব দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে পাঠাতে হবে।এরপর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেই ওই রোগীর উপর নজরদারি করা হবে। প্রয়োজন পরলে তাকে তাঁর বাড়ি থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এনে “আইসোলেশন ওয়ার্ডে” রাখা হবে।

আর অন্যদিকে বেসরকারি প্যাথলজিক্যাল কেন্দ্রগুলির মালিক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বলা হয়েছে তাঁদের দৃষ্টিতে যদি কেহ কোন সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করাতে আসে তাহলে তাঁরা যেন সেই রোগীকে পরীক্ষা না করে তাঁর পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর খাতায় নথীভুক্ত করে তাঁকে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেন। আর সেই রোগীর পূর্ণ নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যতদ্রুত সম্ভব পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এরপর স্বাস্ব্যকেন্দ্র থেকেই সেই রোগী ও তাঁর আত্নীয়-স্বজনদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: