বিকেল থেকেই চালু লকডাউন, দেশে স্টেজ টু থেকে স্টেজ থ্রিতে করোনার প্রবেশ

HnExpress ২৩শে মার্চ, ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত, কলকাতা ঃ স্বাস্থ্যমন্ত্রক সুত্রের খবর, নোভেল করোনা ভাইরাস বা কোভিড-১৯ সংক্রমনের থাবায় দু সপ্তাহের মধ্যে গোটা দেশে মৃত্যুর সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৮জন, যার মধ্যে ৭জন হলেন ভারতীয় এবং ১জন ইতালির। আর সংক্রমণের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪০০ এরও বেশি। তাই এমতাবস্থায় আজ বিকেল থেকেই দেশ তথা সারা রাজ্য জুড়ে চালু করা হচ্ছে লকডাউন প্রসেস, কারণ বর্তমানে দেশে স্টেজ টু থেকে স্টেজ থ্রিতে প্রবেশ করেছে করোনা ভাইরাস।

বস্তুতঃ এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ প্রতিরোধে বড় পদক্ষেপ নিল লকডাউনের মাধ্যমে। কারণ দেশ জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। আর গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ডাকা জনতা কার্ফু চলাকালীনই আবারও দুটি মৃত্যুর খবর আসায় রীতিমতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে লকডাউনের মত বৃহৎ সিন্ধান্ত নেয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ দেশের প্রায় সব রাজ্যই।

আজ ২৩শে মার্চ বিকেল ৫টা থেকে ২৭শে মার্চ পর্যন্ত লকডাউন থাকলেও ভারতীয় রেল পরিষেবা বন্ধ থাকবে ৩১শে মার্চ অব্দি। আর এরই পাশাপাশি অন্যান্য রাজ্যের সাথেও সমস্ত পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। শুধু মাত্র জরুরীকালিন পরিষেবা ও মালবাহী পরিবহন ব্যবস্থা এই লকডাউনের আওতার বাইরে। আর সাথে বন্ধ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও।

কিন্তু লকডাউনের পরেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভাইরাসের সংক্রমণ, এমনটাই সুত্রের খবর। পরিস্থিতি সামলাতে প্রতিটি রাজ্যের মুখ্যসচিবদের নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ভিডিও কনফারেন্স করলেন ক্যাবিনেট সেক্রেটারি। আর কনফারেন্সের পরেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বাড়তি অধিকার দেওয়া হল প্রতিটি রাজ্যকে। সাথে বলে দেওয়া হল, যে রাজ্য বা জেলায় করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া যাবে সেখানে সাথে সাথেই লকডাউন জারি করা হবে।

জরুরি পরিষেবা বাদে বাকি সব কিছুই বন্ধ রাখা হলেও ভাইরাসের সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে পৌঁছেছে শীর্ষে। বর্তমানে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তার নিরিখে ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব এল আগরওয়াল বললেন, ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ২২টি রাজ্য তথা ৭৫টি জেলায় দ্রুতগতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পরেছে।

ফলতঃ সেইসব জেলায় জরুরি পরিষেবা ব্যাতিরেকে সব কিছুই লকডাউনের মাধ্যমে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, জরুরি পরিষেবা বলতে, মুদি দোকান, দুধ, পাউরুটি, ওষুধ, দমকল, পুলিশ প্রশাসন, ডাক্তার, নার্স, আয়া, স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মী, সংবাদমাধ্যম, ব্যাংক, এটিএম, মাছ, সব্জি বাজার ছাড়া বাকি সব বন্ধ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।

কারণ মুলতঃ কোভিড-১৯ বা সার্স-কোভি টু স্টেজ থ্রি’র করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চেইন অফ ট্রান্সমিশন ভাঙাটাই এখন দেশবাসী তথা সরকারের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বর্তমানে নানান পরীক্ষামূলক মেডিসিন ব্যবহার করে চেষ্টা চলছে রোগ প্রতিরোধের। তবে এখনো পর্যন্ত ভাইরাসের কোনো কার্যকরী টিকা আবিষ্কারের খবর নেই। প্রয়োজনে বাড়তে পারে লকডাউনের সময় সীমা।

 

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: