বাড়ল লক ডাউনের মেয়াদ, আংশিক হটস্পট করা হল মধ্যমগ্রামকেও

HnExpress ১১ই এপ্রিল, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগণা ঃ বাড়ল লক ডাউনের মেয়াদ, আর এরই পাশাপাশি আংশিক হটস্পট করা হল উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অন্তর্গত মধ্যমগ্রামকেও। প্রসঙ্গত, নোভেল করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় চলছে টানা ২১ দিনের সারা ভারত জুড়ে ‘লক ডাউন’, যার সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৪-ই এপ্রিল মধ্যরাত। কিন্তু তারপর কি ‘লক ডাউন’ উঠবে? এই নিয়ে নানা মহলে জল্পনা ছিল তুঙ্গে।

 

 

তবে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের সকল মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনা করেন। সেই আলোচনার পর বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে নির্দেশ দেন, আগামী ৩০-শে এপ্রিল পর্যন্ত সারা বাংলা জুড়ে মানুষের স্বার্থেই চলবে এই ‘লক ডাউন’। আর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে ১০-ই জুন পর্যন্ত। এছাড়াও সারা বাংলা জুড়ে করোনার পকেট খুঁজে চলছে এরিয়া আইসোলেশন। বঙ্গে এই কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের আশা কর্মীদের।

 

 

সেই নির্দেশ মতো, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত মধ্যমগ্রামের ১০ নম্বর ওয়ার্ডক সহ বেশ কিছু জায়গা শুক্রবারই ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। সেই সূত্রে শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা। হটস্পটের নিয়ম মেনে এলাকার রাস্তাঘাট সব সিল করে দেওয়া হয়েছে। তাই দোকানপাট, বাজার সবই বন্ধ রয়েছে। রাস্তায় মানুষের চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বিশেষ ছাড়পত্র ছাড়া এই ওয়ার্ডের মানুষকে বাইরেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

 

 

বাইরের লোকজনও এখন এই এলাকায় ঢুকতে পারছেন না। মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা পুরসভার চেয়ারম্যান রথীন ঘোষ জানিয়েছেন, সব্জি এবং মাছের গাড়িকে এই এলাকায় বিশেষ অনুমতি সাপেক্ষে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রয়োজন অনুযায়ী তা কিনে নিচ্ছেন। এছাড়া, ওষুধের প্রয়োজন হলে, এখানকার বাসিন্দারা কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে বাড়িতেই ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রথীনবাবু।

 

 

এলাকায় মানুষের যাতায়াতের ওপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে রয়েছে পূর্ব ও দক্ষিণ বঙ্কিমপল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এলাকাগুলি হল, এপিসি বয়েজ ও গার্লস স্কুল সংলগ্ন অঞ্চল, পূর্বালয়, রামমোহন এস্টেট, বিজয় নগর, বসুনগর বাজার, চৌমাথা থেকে কালীবাড়ি মোড় পর্যন্ত রাস্তার বাঁদিক, চৌমাথা থেকে নিউ ব্যারাকপুর মোড় পর্যন্ত যশোর রোডের ডানদিক।

 

 

সম্প্রতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মধ্যমগ্রাম পুরসভার পুর পারিষদ প্রধান তথা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরবিন্দ মিত্র (গণা)। সুত্রের খবর, তিনি বর্তমানে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এবং ক্রমশ সুস্থও হয়ে উঠছেন। করোনা পজিটিভ ধরা পড়ার আগে তিনি বেশ কয়েকজনের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁদের সবাইকে এখন হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

 

 

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ কর্মীদের জনসাধারণকে সচেতনতার মাধ্যমে ‘লক ডাউন’ মেনে চলাতে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু সেটা যাতে আবার বাড়াবাড়ি পর্যায় না পৌঁছে যায়, সেই দিকেও নজর দিতে বলেন তিনি। সাধারণ মানুষদের অসুবিধার কথা এদিন তিনি স্বীকারও করার পাশাপাশি এটাও বললেন যে, যদি সাধারণ মানুষের এখনও ‘হুঁশ’ না ফেরে তবে যে আগামী দিনে করোনা ভাইরাস ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: