বামেদের বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অতিসক্রিয় লালবাজার

HnExpress ২০শে এপ্রিল, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা ঃ ভরা লকডাউনে বামেদের বিক্ষোভ কর্মসূচী। আর তাতেই লালবাজারের অতি সক্রিয়তার অভিযোগ তুলল বামেরা। আর গ্রেফতারও করা হয় বামেদের শীর্ষ নেতৃত্বকে। বামেদের অভিযোগ, তাঁরা রীতিমতো স্বাস্থ্য বিধি মেনেই বিক্ষোভ করছিলেন, পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলেই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তবে অন্যদিকে পুলিশ সূত্রের দাবি, লক ডাউনে এমন বিক্ষোভ নেতারা করলে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে।

 

 

আর তাই পুলিশকে এমন কঠোর হতে হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে শনিবার রেড রোডে বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল বামেদের। সরকারি নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই এক প্রতিকী বিক্ষোভ কর্মসূচি ছিল তাদের। বাম নেতাদের গাড়িগুলিও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। বাম নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করে লালবাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে বামেদের অভিযোগ, পুলিশ সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে।

 

 

এদিন রেড রোডে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ছিলেন বামফ্রন্ট সম্পাদক বিমান বসু, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র, প্রাক্তন সাংসদ মহম্মদ সেলিম, বাম পরিষদীয় নেতা সূজন চক্রবর্তী-সহ একাধিক নেতা-কর্মী। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী, দূরত্ব বজায় রেখেই তাঁরা বর্তমান পরিস্থিতির নানান দাবি নিয়ে লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, লকডাউনের জেরে বহু গরিব-দুস্থ মানুষদের কাছে ঠিকঠাকভাবে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছচ্ছে না, রেশন নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে, এমনকী লকডাউন সঠিক ভাবে পালনও করা হচ্ছে না সর্বত্র।

 

 

আর তাই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ের বিরুদ্ধেই অভিযোগে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে বামফ্রন্ট, এমনটাই বক্তব্য তাদের। রাজ্যে করোনার টেস্ট ঠিকঠাক ভাবে হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে দুটি মামলাও দায়ের করেছেন ফুয়াদ হালিম, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো সিপিএম নেতারা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দু দু’বার বৈঠক করেছেন বাম নেতারা। তা সত্ত্বেও অভিযোগ, রাজ্য সরকার তাঁদের দাবি মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

 

 

তাই এদিন তারা এক প্রতিকী বিক্ষোভ দেখান। এদিন রেড রোডে ১৫ মিনিট অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন বাম নেতৃত্ব। যদিও অনেক সমালোচকদের মতেই, বামেদের দাবী কোথাও যেন সঠিক। স্বাস্থ্য বিধির কথা তুলতে গেলে বাংলার প্রশাসনিক প্রধানও অনেক জায়গায় নজরদারির সময় সামাজিক দূরত্ব মানতে পারছেন না, মাস্কের জায়গায় কাপড়ে মুখ ঢাকছেন। রাজ্যের প্রধান হয়ে তাঁরও এই ব্যাপারে সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করছেন তাঁরা।

 

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: