বাংলা সংবাদপত্রের ২০০ বছর

HnExpress সম্রাট গুপ্ত, নৈহাটি : ইতিহাসের প্রবাহমানতায় পুরনো বা বাতিল হয়ে যাওয়া বিষয়গুলিকে জানতে হবে। রবিবার নৈহাটি বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এই মন্তব্য করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর। এ দিন আলোচনার বিষয় ছিল ‘বাংলা সংবাদ ও সাময়িকপত্রের দু‘শো বছর’। বঙ্কিম ভবনের সঞ্জীবচন্দ্র সভাগৃহে ওই আলোচনাসভায় বিষয়টির ওপর আলোকপাত করেন অভিজ্ঞ সাংবাদিক অশোক সেনগুপ্ত এবং গবেষণাকেন্দ্রের অধ্যক্ষা সংগীতা ত্রিপাঠি মিত্র।

স্নেহাশিসবাবু আলোচনায় বলেন, বাংলার ইতিহাস-সংস্কৃতির চর্চা মূলত কলকাতাভিত্তিক। অথচ, মণীষীরা যে জায়গায় জন্মেছেন, বড় হয়েছেন, যে পরিবেশে সমৃদ্ধি পেয়েছেন, সেই জায়গাকে যথাযোগ্য সম্মান জানিয়ে সেখানকার ইতিহাস সংরক্ষণ করতে পারলে তবেই মিলবে প্রকৃত সার্থকতা। মার্শম্যান থেকে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য, জয়গোপাল তর্করত্ন, কালীচরণ শিরোমনি, কাঙাল হরিনাথ— যুগে যুগে কারা কীভাবে বাংলা সংবাদপত্র ও সাময়িকীর ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তা সবিস্তারে ব্যাখ্যা করেন। ১৫৫৬-তে ভারতে প্রথম ছাপাখানা তৈরির পর থেকে উল্লেখযোগ্য নানা প্রসঙ্গের অবতারণা করতে গিয়ে তিনি জানান, কেবল বাংলা নয়, হিন্দি ও উর্দূ দৈনিকের আঁতুরঘরও ছিল এই কলকাতা। আর, এক অর্থে এশিয়ায় সংবাদপত্রের জনক জেমস হিকি কীভাবে অপমানের বোঝা মাথায় নিয়ে ভারত ত্যাগ করেন, অবহেলায় মারা যান জলপথে, আপাত অজানা সেই ঘটনাও শ্রোতারা জানতে পারেন স্নেহাশিসবাবুর আলোচনায়।

অশোকবাবুর আলোচনার বিষয় ছিল ’বাংলা সাময়িকীর মহিলা সম্পাদক’। আজ থেকে ১২৩ বছর আগে সপ্তদশী বনলতা কী প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে অন্তঃপুর প্রকাশ করেছিলেন, শ্রোতাদের তা বিশদ পরিবেশন করেন। দুই বাংলার কিছু স্মরণীয় মহিলা সাংবাদিকের কীর্তির নানা কথা জানান অশোকবাবু।

অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা সঙ্গীতা ত্রিপাঠি মিত্র তাঁর ভাষণে বলেন, এক সময়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় সাপ্তাহিক আনন্দমেলায় তারাপদ রায়ের ডোডো-তাতাই পড়ার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। এর পর ‘আনন্দমেলা’ সাময়িক হয়ে আমাদের খিদে মিটিয়েছে। যুগে যুগে মানুষের মন তৈরি করেছে সংবাদপত্র-সাময়িকী। বদলে গিয়েছে এর আকার, ঘরানা। সংবাদপত্র এখন চলে এসেছে মুঠিফোনে। উপস্থিত নবীন শ্রোতাদের প্রবীন শিক্ষিকার উপদেশ, অতীতের মধ্যে ডুব দিয়ে যদি আগ্রহ সহকারে এ সব জানার চেষ্টা কর, তাহলেই আসবে সামগ্রিক সার্থকতা।

আলোচনাশেষে ধন্যবাধ জ্ঞাপন করেন মৌলনা আজাদ কলেজের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক দেবপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়। সুন্দর সংযোজনা ও শুরুর ভাষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিকে সার্থক রূপ দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কলকাতার দুই অতিথি সাংবাদিককে বঙ্কিম জাদুঘরের দ্রষ্টব্য ঘুরিয়ে দেখান কিউরেটর
গৌতম সরকার।

1 thought on “বাংলা সংবাদপত্রের ২০০ বছর

  1. Bangla Sangbadpatra.er 200 bachorer itihaas alochonai Iswar Gupta.r kono ullekh nei !!

    Prosangato, aai rakom aakta aalochonar bisoy aayojon kore Naihati Bankim Gabeshona Kendra, abossoi Sadhubaad.er joggo.

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: