রাজ্যের প্রথম হিন্দি বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

HnExpress ওয়েবডেক্স নিউজ ঃ সম্প্রতি হাওড়ার আরুপাড়ায় রাজ্যের প্রথম হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর মূল্যবান বক্তব্যে বললেন যে, কেউ ভেবেছিলো হাওড়ায় নবান্ন তৈরী করার কথা? নবান্ন-র পেছনে ৩ একর জমি আছে, আমি চাই ওখানে স্বাস্থ্য ভবন নিয়ে আসা হোক।ডুমুরজোলায় হেলিপ্যাড তৈরীর কথা কে ভেবেছিলো? এই রাজ্যে ৩০টি হেলিপ্যাড তৈরী করেছি আমরা

মালদা, বালুরঘাট, কোচবিহারে, অন্ডালে বিমানবন্দর হয়েছে, পরে পুরুলিয়ায়ও একটি বিমানবন্দর হবে। আজ যখন কেউ কলকাতায় আসে, তার প্রথম কথা কলকাতা বদলে গেছে, এটাই পরিবর্তন।

কতগুলো হিংসুটে লোক, যাদের চোখ নেই তারা কিছুই দেখতে পায় না। বাংলা কিভাবে এগিয়ে গেছে, অন্যেরা দেখে হিংসে করে। আমাদের কন্যাশ্রী প্রকল্প রাষ্ট্রসংঘের প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। বাংলা আজ বিশ্বসেরা বিশ্বদরবারে।

আজ বাংলায় মেয়েদের ৫০% সংরক্ষণ হয়ে গেছে। সরকারি চাকুরীজীবী মেয়েদের এখন মাতৃত্বকালীন ছুটিও দেওয়া হয় ৭৩১ দিন। এখন সকলে কন্যাশ্রী পায়, ইনকামের কোন মার্জিন নেই, কোন জাতিভেদ নেই – সবাই এই স্কলারশিপ পায়।

বাংলায় এখন সবাই সবুজ সাথী সাইকেল পায়, ৭২ লক্ষ তপশিলি জাতি ও উপজাতির ছেলেমেয়েদের স্কলারশিপ দেওয়া হয়, ২.১২ কোটি সংখ্যালঘু ছেলেমেয়ে স্কলারশিপ পেয়েছে – যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। ৫৮ হাজার ওবিসি ছেলেমেয়ে উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ পাচ্ছে

সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ দেওয়া হয়। ২০১১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বাংলায় বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ১২টি। গত সাড়ে ৭ বছরে ২৯টি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে। আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে।

কৃষিজমির খাজনা এবং মিউটেশন ফি মুকুব করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। উত্তরাধিকারর সুত্রে পাওয়া জমির মিউটেশন ফিও মুকুব করে দেওয়া হয়েছে। এখন আর নাম হস্তান্তরের জন্য কোন ফি দরকার হয় না। এখন self attestation চালু করা হয়েছে।

কৃষকদের শষ্যবিমার পুরো প্রিমিয়াম রাজ্য সরকার দিচ্ছে। পুরো খরচ করছে রাজ্য সরকার, কেন্দ্র নয়। ওরা মিথ্যে কথা বলে বেড়াচ্ছে।

কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় ৭২ লক্ষ কৃষক পরিবার উপকৃত হবে।

ধানের যথাযথ মূল্যের নিশ্চয়তার জন্য ‘ধান দিন চেক নিন’ প্রকল্প চালু হয়েছে।

গর্ভবতী মহিলাদের ৫০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাতৃ যান’ পাঠানো হচ্ছে। বাচ্চার জন্মের পর তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য একটি করে চারাগাছ দেওয়া হচ্ছে।

শুধু বাংলা নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উড়িষ্যা থেকেও মানুষ বাংলায় আসে বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে।

বাংলার সাড়ে ৯ কোটি জনগণের মধ্যে সাড়ে ৭ কোটি মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সাথী করে দেওয়া হয়েছে। আমরা আয়ুষ্মান ভারতে নেই। যখনই বুঝেছি ওটা দুনম্বরী, আমরা সরে এসেছি।

বাড়ির মহিলার নামে স্বাস্থ্য সাথী স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে। সেই মহিলার পরিবারের লোক তো চিকিৎসা পাবেনই, মহিলার বাবা মাও চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।

নন্দীগ্রাম সহ আরও ১২ লক্ষ মানুষের জন্য আজ একটি জলের প্রকল্পের উদ্বোধন হল। এটি প্রায় ১৪৮৮ কোটি টাকার প্রকল্প। কাল বাঁকুড়ায় জলের প্রকল্পের শিলান্যাস হবে। প্রায় ১১০০ কোটি টাকার প্রকল্প।

আগে মানুষ বলত, লোডশেডিংয়ের সরকার আর নেই দরকার। এখন আর লোডশেডিং হয়না।

নরেন্দ্র মোদী একটা বাথরুমের উদ্বোধন করতেও চলে যাচ্ছে। আমি একসঙ্গে অনেক প্রকল্পের উদ্বোধন করি। এতে সরকারের টাকাও কম খরচ হয়। এত প্রচারের কি দরকার? কাজ করলে প্রচার লাগে না।

যখন নোটবন্দী হয়েছিল, আমিই প্রথম বলেছিলাম নোটবন্দী খারাপ। নোটবন্দীর ফলে ২ কোটি ছেলেমেয়ে চাকরি হারিয়েছে।

দেশে ১২ হাজার কৃষক আত্মহত্যা করেছে। আপনি আচরি ধর্ম, পরেরে শেখাও। বাংলা কর্মসংস্থান তৈরীতে সেরা। ১০০ দিনের কাজে আমরা যা কর্মসংস্থান করেছি, আমরা পর পর চার বছর দেশে এক নম্বর।

দক্ষতা উন্নয়নে আমরা এক নম্বর। উৎকর্ষ বাংলার মাধ্যমে ৬ লক্ষ ছেলে মেয়েকে আমরা প্রশিক্ষণ দিই।

কন্যাশ্রীর মত, উৎকর্ষ বাংলা প্রকল্প পৃথিবীর ১০৬২ টি প্রকল্পের মধ্যে সেরা পাঁচে জায়গা করেছে।

সবুজ সাথীও পৃথিবীর ১১৪২টি প্রকল্পের মধ্যে সেরা পাঁচে জায়গা করে নিয়েছে।

বাংলায় বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে। এটা সংসদের নথিতে আছে।

মোদীবাবুর সরকারের পাঁচ বছর শেষ হয়ে গেছে। ওষুধের তারিখ এক্সপায়ার করার পর ওষুধ খেয়ে কোনও লাভ আছে?

সামনে নির্বাচন। তাই কখনও মিসাইল দেখাতে হচ্ছে, কখনও বন্দুক দেখাতে হচ্ছে। যে সেনারা নিজের জীবন দিয়ে লড়াই করে, তাদের নিয়েও রাজনীতি করছে।

আমরা সেনাদের সম্মান করি। আমরা সেনার সঙ্গে আছি। আমরা নৌবাহিনীর সঙ্গে আছি। আমরা বায়ুসেনার সঙ্গে আছি। আমরা দেশের সঙ্গে আছি, আমরা মানুষের সঙ্গে আছি। আমরা সম্প্রীতির সঙ্গে আছি, আমরা একতার সঙ্গে আছি। আমরা শিক্ষার সাথে আছি, আমরা সভ্যতার সাথে আছি। আমরা সংস্কৃতির সাথে আছি। আমরা মোদী বাবুর সাথে নেই। আমরা কালো তালিকাভুক্ত সরকারের পক্ষে নই।

যে সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলছে, তাকেই বলছে পাকিস্তানি। আমরা সবাই পাকিস্তানী, উনি একাই দেশপ্রেমিক?

প্রতিদিন গুগুলে বিজেপির লোকরা সার্চ করে আমার ধর্ম কি। আমরা ধর্ম মানবধর্ম।

আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছিলেন, মানুষকে কিছুদিনের জন্য বোকা বানিয়ে রাখা যায়। কিন্তু, একজন মানুষ সকলকে সবসময় বোকা বানাতে পারে না।

দেশজুড়ে বিভেদসৃষ্টি করছে বিজেপি। ঘৃণা, বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। লিঞ্চিং-এর সিণ্ডিকেট হয়ে গেছে বিজেপি। সন্ত্রাসবাদের বড় সিণ্ডিকেট তৈরী করেছে বিজেপি। সকলকে সন্ত্রস্ত করে রেখে দিয়েছে।

কখনও দেখেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে মানুষ এত ভয় পায়? দেখলেই মানুষ ভাবে গব্বর সিং চলে আসছে।

রাজ্যের ছাত্র যুবদের জন্য যুবশ্রী ছাড়াও আজ আমরা আরেকটি ‘যুবশ্রী অর্পণ’ নামে প্রকল্প ঘোষণা করলাম। এই প্রকল্পে আরও ৫০ হাজার ছেলেমেয়েকে – যারা আইটিআই বা পলিটেকনিক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে বা কোনও ব্যবসা করতে চায় – ১ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।

আমরা হিন্দি, উর্দু, নেপালি, গুরমুখী, সাঁওতালি, কামতাপুরি, রাজবংশী, কুরুখ, কুরমালি-সকল ভাষাকে সম্মান জানিয়েছি। এখানে হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আর দুটো ক্যাম্পাস উত্তরবঙ্গে এবং আসানসোলে করে দেব।

ডুমুরজোলায় খেল শহর তৈরী হচ্ছে।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: