প্রচন্ড গরমে সুস্থ থাকতে কিছু প্রয়োজনীয় টিপস রইল আপনাদের জন্য

HnExpress স্বাস্থ্য সচেতনতা, রূপা দাস ঃ বৈশাখ -জৈষ্ঠ্য মানেই গ্রীষ্মকাল। যদিও চৈত্র মাস থেকেই গরম অনুভূত হতে শুরু করে। কাঠ ফাঁটা রোদের সাথে বাতাসে থাকে তীব্র আর্দ্রতা। ফলে প্রচন্ড ঘাম, গা জ্বালা ভাব। গরম মানেই শরীরের জন্য নানা অস্বস্তির সূচনা। গা গুলানো, বমি বমি ভাব। খাওয়ার ইচ্ছে নেই, শরীর খুব দূর্বল হয়ে যাওয়া, আরও নানান উপসর্গ। আর তাই এই সময়ে সুস্থ ও তরতাজা থাকতে হলে কিছু উপশমকারী টিপস দরকার।

যদিও গরমকে আটকানোর ক্ষমতা কারোর হাতেই নেই। কিন্তু তবু হয়তো একটু সচেতনতা অবলম্বন করলে আমরা অনেকটাই স্বস্তি পেতে পারি গরমের হাত থেকে এবং সুস্থ ও তরতাজা থাকাটাও সহজ হয়। আসুন আজ, এক নজরে জেনে নিই গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে সুস্থ থাকার বেশ কয়েকটি উপকারী টিপস;

➤ বাইরের তাপমাত্রা যদি মস্তিষ্কের তাপ নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতকে ছাড়িয়ে যায়, তখনই হিট স্ট্রোক হয়। তাই হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে হলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরে বের হলে অনেকটা রেহাই পেতে পারেন এই জাতীয় সমস্যা থেকে।

➤ প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না থাকাটাই ভালো। প্রচন্ড রোদে না বের হওয়াটা ভালো।প্রয়োজনবশত বেরোতে হলে যতোটা সম্ভব ঠান্ডা জল পান করে বের হন।

➤ এই সময় খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে একটু বেশি সতর্ক ও যত্নবান হওয়া দরকার। তাই এই সময় যতটা সম্ভব সুষম খাদ্যাভ্যাস বা আহার করুন। খেতে পারেন সবুজ জাতীয় শাখ সবজি। খেতে পারেন ছোট ও জ্যান্ত মাছ বা কাঁটাপোনা।খেতে পারেন তেতো জাতীয় সব্জি, যেমন – কড়লা, উচ্ছে, নিমপাতা প্রভৃতি। এই সময় টক জাতীয় রান্না খুবই উপকার। তাই বাড়িতেই বানাতে পারেন আমের টক বা ফটকা জাতীয় পানীয়, কাঁচা আম সেদ্ধ করে বা পুড়িয়ে আম পানা বানাতে পারেন, খাওয়ার তালিকায় রাখতে পারেন টকদই বা দইয়ের ঘোল, বেলের সরবত। এগুলি পেটের পক্ষে খুবই উপকার ও শরীরের গরম ভাবটা অনেকটাই কমাতে সাহায্য করে। আর পারলে এই সময় অতিরিক্ত তেল মশলা বহিষ্কার করুন। গরমের হাত থেকে রক্ষা পেতে জল ও জলের পরিমাণ বেশি আছে এমন খাবার খান। রোজ খবরের তালিকায় রাখুন শশা, টমেটো, লেবু। অনেকেই শশা টা খেতে পছন্দ করেন, আর এই শশা আপনাকে নানা অসুখের হাত থেকেও মুক্তি দেয়।

➤ বাইরে বেরোলে অবশ্যই সঙ্গে ছাতা, সানগ্লাস ও রুমাল ব্যবহার করুন এবং ব্যাগে পর্যাপ্ত পরিমান বিশুদ্ধ পানীয় জল রাখুন। গরমে রাস্তায় বের হলে হাত আর পিঠ ঢাকা সুতির পোশাক পরুন। তাতে সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির ফলে স্কিন বার্ন থেকে সৃষ্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সহায়তা করবে। পারলে বের হওয়ার সময় হাতে ও মুখে সানস্ক্রিন লোশন মেখে নিন।

➤ প্রচন্ড গরম এবং বাতাসে প্রচুর আর্দ্রতার কারণে ঘাম হয়। যার ফলে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় প্রয়োজনীয় জল ও লবণ। তাতে শরীর দূর্বল হয়ে পরে, দেখা দেয় গ্লুকোজের অভাব। তাই সেই দূর্বলতা কাটাতে খেয়ে নিন একটি কচি ডাবের জল বা গ্লুকোজ। গরমে তৃষ্ণা মেটাতেও ডাবের জল খুবই উপকারী ও অপরিহার্য। শরীর থেকে ঘামের সাথে যে লবণ বা গ্লুকোজ বের হয়ে যাচ্ছে তার জন্য খেতে পারেন গ্লুকোনডি, নুন চিনির জল, আখের রস, ওআরএস প্রভৃতি। তবে মাথায় রাখবেন ডায়বেটিক রুগিদের জন্য শুধুমাত্র ডাবের জল ও ওআরএস পানীয়ই সঠিক। গরমের কারনে ঘামের সঙ্গে বের হয়ে যায় মিনারেল, তা পুরনের জন্য খাদ্য তালিকায় ডাবের জল অত্যন্ত জরুরী। আর তা ছাড়াও ডাবের জলে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা।

➤ এই গরমে শুধুমাত্র ফিল্টারের জল বা ফোটানো জল পান করুন। কারন গরম ও বর্ষাকালের সময় জল থেকেই বেশি রোগের প্রকোপ দেখা যায়। নিজেকে সতেজ ও তরতাজা রাখতে দিনে বেশ কয়েকবার স্নান করুন এবং স্নানের সময় জলে ডেটল বা সুদল দিয়ে স্নান করুন। তাতে গরমে র‌্যাস ফোড়া বা যেকোনো ধরনের জীবাণুর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবেন। গরমের ফলে যেকোনো ফোড়া ফুস্কুড়ি অ্যালার্জি জনিত জায়গায় সুদল লাগিয়ে রাখুন, অনেকটা আরাম পাবেন ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: