Tue. Feb 18th, 2020

দুটি বড়সড় ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনায় ঝাড়খন্ড থেকে গ্রেপ্তার ৫

HnExpress ৭ই ফেব্রুয়ারী, ওয়েবডেক্স নিউজ, কলকাতা ঃ কলকাতা পুলিশের অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশন বড়সড় সাফল্য পেল পৃথক দুটি ব্যাঙ্ক জালিয়াতির ঘটনার তদন্তে, ৫ জন অপরাধীকে গ্রেফতারও করা হয়। প্রথম ঘটনাটি হলো ২০১৯ সালের জুন মাসের। নিজেকে ব্যাঙ্ক কর্মচারী পরিচয় দিয়ে অচেনা নম্বর থেকে জনৈক বয়স্ক নাগরিকের কাছে ফোন করে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের KYC আপডেট করার পরামর্শ দেয় অজ্ঞাত পরিচয় এক জালিয়াত। সরল বিশ্বাসে ওই বয়স্ক নাগরিক তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্য অকপটে জানিয়ে দেন ওই জালিয়াতকে।

কথার ছলে তাঁর মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপের username এবং password জেনে নেয় সেই ভুয়ো ব্যাঙ্ক কর্মচারী। মুহূর্তে ৮৮ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যায় সহজ সরল মানুষটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে। অভিযোগ জমা পড়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে অচিরেই তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করে অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশন। প্রথমেই তারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেঁচে থাকা ৩০ লক্ষ টাকা সুরক্ষিত করার ব্যবস্থা করে।

আর সেই তদন্তকালে জানা যায় হাতিয়ে নেওয়া টাকা ভাগ হয়েছে একটি বেসরকারি ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অ্যাপের ১০০ টিরও বেশি অ্যাকাউন্টে, যার প্রতিটি খোলা হয়েছে জাল নথি ও ভুয়ো পরিচয় পত্র দিয়ে। তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন তদন্তকারী অফিসাররা অসীম ধৈর্য নিয়ে খতিয়ে দেখতে থাকেন সম্ভাব্য সকল দিক। অবশেষে সন্দেহের তীর দিক নির্দেশ করে ওই ঘৃণ্য অপরাধের মূল ৪ চক্রীর দিকে, যারা প্রত্যেকেই ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা।

দ্রুত ঝাড়খন্ড রওনা দেয় অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশনের বিশেষ টিম এবং ১লা ফেব্রুয়ারি গোপন ডেরা থেকে একে একে গ্রেপ্তার করা হয় সঞ্জিত রক্ষিত, ছোট্ট দে ,গোবিন্দ দত্ত এবং প্রদীপ দান নামের চার জন কুখ্যাত ব্যাঙ্ক জালিয়াতকে। প্রায় একই ছকে জালিয়াতির দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছিলো এবছরের ১৫ই জানুয়ারিতে।

একটি বেসরকারি ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অ্যাপের KYC আপডেটের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে একটি মেসেজ আসে হাওড়ার বাসিন্দা জনৈক সমীর কুমার সিনহার কাছে। সরল বিশ্বাসে যাবতীয় তথ্যাবলী জানিয়ে দেন ওই ব্যক্তি। নিজেকে ওই ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সংস্থার কর্মী পরিচয় দিয়ে কথাবার্তা শুরু করে এক দুষ্কৃতী এবং সমীর বাবুকে তাঁর KYC আপডেট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য একটি রিমোট অ্যাকসেস অ্যাপ ” টিম ভিউয়ার ” ডাউনলোড করতে বলে।

অ্যাপটি ডাউনলোড করার আগে সমীর বাবু স্বপ্নেও আঁচ করতে পারেননি যে তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলী দৃশ্যমান হয়ে উঠছে দূরবর্তী জালিয়াতের মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের স্ক্রিনে। সমীর বাবু অ্যাপটি ডাউনলোড করে চূড়ান্ত ভুলটি করে বসেন এবং ফল স্বরূপ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে মুহূর্তে উধাও হয়ে যায় ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আর হতচকিত সমীর বাবু অভিযোগ পত্র জমা করেন শেক্সপিয়ার সারণি থানায় এবং অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশন তদন্তভার তুলে নেয় দ্রুত।

তদন্ত চলাকালীন অনুসরণ করা হয় প্রচলিত পদ্ধতি এবং ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির। অপরাধীকে চিহ্নিত করতে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশনের দক্ষ তদন্তকারী অফিসারদের। এক্ষেত্রেও অপরাধীর ঠিকানা সেই ঝাড়খন্ড। অ্যান্টি ব্যাঙ্ক ফ্রড সেকশনের বিশেষ টিম ঝাড়খন্ড রওনা হয়ে যায় দ্রুত এবং ৩১শে জানুয়ারী গোপন ডেরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় অপরাধের মূল পান্ডা বিনোদ কুমার পণ্ডিতকে।

তবে এই পৃথক দুটি ঘটনা বার বার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে বর্তমানে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকা বিশেষ প্রয়োজনীয় এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা কতটা জরুরি। অতএব সতর্ক থাকুন সকলে, অপরকেও সর্তক করুন। কারণ এটা আমাদের মৌলিক দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র ও চিত্র ঃ কলকাতা পুলিশ ফাইল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: