তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষের জেরে ভাঙ্গল বাংলার মনিষী বিদ্যাসাগরের মূর্তি, চলল তুমুল ইটবৃষ্টি, জখম দুপক্ষের কর্মী সমর্থক

HnExpress রূপা বিশ্বাস, কলকাতা ঃ “পথেই এবার নামো সাথী, পথেই হবে পথ চেনা। মিছিলে ভূলুণ্ঠিত তব মুর্তি, ঈশ্বর দিয়েছেন মগজ, তুমি দিলে ভাষা, মনীষিদের মুর্তি ভাঙ্গা রাজনৈতিক হিংসা।” আজ কলকাতা কলেজ স্ট্রিটে অমিত শাহের বিশাল রোড শো কে ঘিরে তৈরি হলো তুমুল রণক্ষেত্র। কলকাতার এন্টালি থেকে শুরু করে ধর্মতলা হয়ে মিছিলটি কলেজ স্ট্রিটের কাছে আসলে, অমিত শাহের সুসজ্জিত গাড়ির দেখেই কালো পতাকা দেখান কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মীরা। আর ঠিক তখনি নাকি চড়াও হয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরাও। শুরু মারাত্মক বচসা থেকে, পৌঁছায় ভয়ংকর হাতাহাতি, ইট ছোড়াছুড়ি পর্যায়। কলেজের চারিদিকে জ্বলছে আগুন।তবে এই দুই ডানপন্থী দলের মাঝে পড়ে নষ্ট হল রাজ্যের ঐতিহ্য, সংষ্কৃতি ও বাঙ্গালী মনিষীদের সম্মান। যার হাত ধরে বর্ণের পরিচয় ঘটেছে। কথামালা আর বোধোদয় হয়েছে, আজ সেই মহান মনিষী ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর মূর্তি ভাঙল বিজেপির দলীয় কর্মী সমর্থকরা। সারা বাংলা কেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে এই জঘন্যতম ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছে গোটা দেশ। আজকের এই দিনটি বাংলার বুকে কালো দিবস বলে দাবি করছে সমগ্র বাঙ্গালী জাতি। ভোট প্রচারে এসে বিজেপির এই ধরনের দাঙ্গার জেরে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে জনসাধারণের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে তীব্র অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষ। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা নেত্রীদের কথা অনুযায়ী, বিজেপির মিছিলের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী ছাত্রদের উপর বিজেপির ইউপি-বিহার থেকে ভাড়া করে আনা গুন্ডাদের এই নির্লজ্জ, বর্বর আক্রমণের জবাব নাকি বাংলার মানুষ আগামী ১৯ তারিখের নির্বাচনেই দেবে।তারা আরও বললেন যে, অমিত শাহ যে কতবড় মিথ্যাবাদী তা আবার প্রমাণ হলো। কারণ বিভিন্ন নিউজ চ্যানেলের প্রত্যেকটা ফুটেজে দেখা গেছে বিজেপির লোকেরা নাকি তাণ্ডব লীলা চালাচ্ছে, ইট ছুড়ছে, লাঠি নিয়ে আক্রমণ করছে, অথচ দোষ দেওয়া হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ভাবে কালো পতাকা দেখানো কলেজের তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র পরিষদের ছাত্র-ছাত্রীদের উপর। তাদের মতে, অসভ্য, বর্বর একটি রাজনৈতিক দল এই বিজেপি, আজ আবার প্রমাণিত হলো বাংলার বুকে দাঁড়িয়ে প্রচার করার নাম করে বাঙ্গালী ও বাংলার সংস্কৃতির উপর চরম আঘাত হানাই এদের আসল উদ্দেশ্য।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙ্গে বিজেপি যে নোংরা কাজ করলো, বাঙালি তা কোনোদিন ক্ষমা করবে না, ছি বিজেপি ছি! পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতে জনগণের ধিক্কারজনিত বক্তব্য, “ছি, এই নাকি আমাদের দেশের মহান শাসক দল, ভাবতেই লজ্জা হয়, কোথায়, এ কোন দেশে আমরা বাস করছি। দেশ কী কতগুলো অশিক্ষিত গুণ্ডা বাহিনীর হাতে থাকবে তবে? কলকাতা আজ যে ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইল, বা যাঁরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটালেন তাঁরা কি প্রমাণ করতে চাইলেন এর মাধ্যমে? তবে যারা আজ বিদ্যাসাগরের মত মনিষীর মূর্তি এই ভাবে ভাঙে, বোঝা যায় তারা বাঙালিদের ভয় পেয়েছে, তাই এই বিকৃত রুচির পরিচয় দিচ্ছে তারা। লজ্জা হয়, করুনা হয় ওই সকল রাজনৈতিক গুণ্ডাদের জন্য।”আজ কলকাতার অলিতে-গলিতে রোড শো এর পরে কলেজ স্ট্রিটে চলছিল অমিত শাহের র‍্যালি। আর সেই র‍্যালি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এর সামনে পৌঁছাতেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এর ছাত্ররা কালো পতাকা দেখাতে শুরু করে। অনুমান, তার জেরেই রেল গার্ড ভেবে বিজেপি সমর্থকরা চড়াও হয়ে মারমুখী হন। তার ফলেই পুলিসের সাথেও তুমুল ধস্তাধস্তি হয় বিজেপির সমর্থকদের। কারণ বশত দুপক্ষের বিবাদ থামাতে নাজেহাল অবস্থা হয় পুলিসের। অন্যদিকে এই ঘটনা চলাকালীন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই সুযোগে কিছু দুষ্কৃতি ভেতরে ঢুকে নির্মম ভাবে ভেঙ্গে ফেলে বাংলার ঐতিহ্য বিদ্যাসাগরের মূর্তি। যদিও তারপরেও চলতে থাকে ইট পাথরের ছোড়াছুড়ি। জখম হয় উভয় পক্ষেই। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেও নাকি ইট পাথর ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ করছেন বিজেপিকর্মী ও সমর্থকরা।অপরদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, অমিত শাহ এর র‍্যালির সামনে বিজেপি গুন্ডাবাহিনী এনে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র ছাত্রীদের উপর অহেতুক হামলা চালানো হয়। দুই পার্টির লড়াইয়ে আক্রান্ত ও রক্তাত্ব হয়েছে অনেক ছাত্র-ছাত্রী। তবে এই পুরো ঘটনার মজা নিচ্ছিলেন অমিত শাহ, দিলীপ ঘোষ সহ বিজেপির সমর্থকরা। আজকের এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন বাংলার জননেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই নোংরা রাজনৈতিক ঘটনার ফলস্বরূপ তিনি শীঘ্রই দিলীপ ঘোষকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আগামীকাল প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়ে বাঙ্গালীকে একত্র হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি নিজে এসে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।এবং বিদ্যাসাগরের ভঙ্গ মূর্তিখানি স্বযত্নে আগলে রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সাথে মুখ্যমন্ত্রীর হুংক্কার, “এবার ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বদলা নেব।” এই মুহুর্তের বিশেষ সুত্রের খবর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার ঘটনায় ইতিমধ্যেই রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার এই বিষয়ে কমিশনের সঙ্গে ১৫ই মে এক বিশেষ বৈঠক করার আবেদন জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বৈঠকের জন্য গঠিত হয়েছে বিশেষ সংসদীয় দল যেখানে রয়েছে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন, রাজ্য সভার সংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, মণীশ গুপ্ত ও নাদিমুল হক।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: