ঠেকের পোলাপানদের এক অভিনব উদ্যোগ

HnExpress পল মৈত্র, দক্ষিন দিনাজপুর ঃ বালুরঘাট টাউন ক্লাবের পাশে ঠেকের পোলাপানদের এক অভিনব উদ্যোগ পাশে আছি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের কলেজ মোড় এলাকায় টাউন ক্লাবের পাশে সন্ধ্যেবেলা সুশীল সমাজের নানান কাজে লিপ্ত অনেকেই আড্ডা দেন। প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় তারা সেখানে উপস্থিত হন, আর নানান আলাপ আলোচনা করেন এবং তারই সাথে এবার তারা এই শীতকালে অসহায় দরিদ্র মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন।

ঠেকের পোলাপানরা তারা একটি ব্যানার তৈরি করেছেন যেখানে লিখেছেন ঠেকের পোলাপানরা পাশে আছি এবং সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন যে, আপনার অপ্রয়োজনীয় জামাকাপড় যেটা আপনারা ফেলে দিচ্ছেন বা বাড়িতে কোন নোংরা মোছার কাজে ন্যাকড়া হিসাবে ব্যবহার করছেন সেগুলো না করে এই দেওয়ালে জামাকাপড় যেমন রাখা রয়েছে সেখান দিয়ে যান, আর পারলে নিয়ে যান আপনার প্রয়োজনীয় বস্ত্র। এই অভিনব উদ্যোগ থেকে অন্তত অসহায় মানুষগুলো যারা ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে ঠকঠক করে কাঁপেন, কষ্ট পান, তারা যেন এবারের শীতে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারেন।

তাদের জন্যই ঠেকের পোলপানদের এই অভিনব উদ্যোগ। শুধু তাই নয়, তারা শুধুমাত্র কিছু অসহায় দিন দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর অভিপ্রায় নিজের গ্যাটের পয়সা খরচ করে রাস্তার শারমেয়দের পেট ভরে মাংস ভাত খাওয়াচ্ছেন।
তাদের এই মহৎ উদ্যোগকে দেখে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন জেলার সদর শহরের একাংশ সুশীল সমাজের লোকেরা, এগিয়ে আসছেন আরো অনেকেই। সকলে মিলে এই অভিনব উদ্যোগ এর জন্য ঠেকের পোলাপানের সদস্যদের সেলাম সহ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

চলতি মাসে শেষ সপ্তাহ ধরে মানবতার স্বার্থে মানবতার দেওয়ালে জামা কাপড় রাখা রয়েছে অসহায় মানুষদের জন্য। আর এই কাছে এগিয়ে এসেছেন সদর শহর জেলার সুপরিচিত সাংবাদিক সুবীর মোহন্ত, সাংবাদিক নীহার বিশ্বাস, শর্টফিল্ম নির্মাতা তথা পরিচালক জয় নিরুপম ভাদুড়ী, সন্দীপ রুদ্র, অসীম প্রামাণিক সহ ঠেকের পোলাপানের অন্যান্য সদস্যরা তাদের একটাই দাবি দয়া করে অপ্রয়োজনীয় জামাকাপড় টা ফেলে দেবেন না মানবতার স্বার্থে আমাদের এই ঠেকের পোলাপানের দেওয়ালে রেখে যান বা নিয়ে যান। সত্যিকারের পোলাপানদের এই অভিনব উদ্যোগ সুশীল সমাজের একাংশ থেকে শুরু করে আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই খুশি এবং তারা যথার্থভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ঠেকের পোলাপানদের পাশে আছি উদ্যোগের প্রতি, আর জানিয়েছেন সাধুবাদও। এবিষয়ে জয় নিরুপম ভাদুড়ি বললেন, আমরা প্রায়ই দেখি আমাদের বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় জামা-কাপড় গুলো ফেলে দিতে বা বাড়ির বিভিন্ন রকম নোংরা পরিস্কার করার জন্য ব্যবহার করতে। কিন্তু সত্যি শীতের সময় এই অসহায় মানুষগুলো যাদের জামাকাপড় নেই ঠান্ডায় কষ্ট পায় তাদের কে দেখে ভীষণ খারাপ লাগে, হয়তো সবসময় অার্থিকভাবে সাহায্য করতে পারি না, কিন্তু এবার একটি অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং প্রত্যেক বছর এই কাজটি করার ইচ্ছে রয়েছে।

সেই কারণেই আমরা জামাকাপড়গুলো এখানে রেখে যাচ্ছি। যারা জামা কাপড় ফেলে দিচ্ছেন তারাও যেনো এই মানবতার দেওয়ালে রেখে যান তার অনুরোধ রইলো। আমাদের সাথে থাকুন, আমাদের সঙ্গে থাকুন, এই শীতে অসহায় সেই মানুষগুলো যাতে একটু শান্তিতে বাঁচতে পারে, কষ্ট না পায় এবং তাদের কষ্ট মাখা মুখে যেন খুশির হাসি ফুটে উঠে তার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহ্ববান জানাই।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: