জীবন ও জীবনী

বইমেলা ১০ পর্ব

HnExpress সম্রাট গুপ্ত, ৮ ফেব্রুয়ারি : রাজনীতিকরা প্রায় সবাই বিতর্কিত। পক্ষ -বিপক্ষ দু’তরফই মজবুত। এই রাজনীতি বিদদের দীর্ঘ সঙ্গ দিয়েও বিন্দুমাত্র কাদা লাগাননি এপিজে আব্দুল কালাম। কারণ তিনি ছিলেন বিজ্ঞানী। আরও সঠিকভাবে বলতে গেলে আদ্যান্ত রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর ওপর এই মেলায় সংহতি পাবলিশার্স প্রকাশ করেছে একটি বই।

জন্ম মে মাসে ১৮৯৫ সালে কৃষ্ণনগরে, রীতিমত সম্ভ্রান্ত পরিবারে । বাবা দীননাথ সান্যাল ছিলেন সংগীতরসিক, গায়ক এবং সাহিত্য সমালোচক, শুধু তাই নয় তিনি ছিলেন সিভিল সার্জেন। কাজেই ছোটবেলা থেকেই সংগীতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অত্যন্ত নিবিড়।

আই.এসসি. পাশ করে অমিয়নাথ যোগ দেন ‘বেঙ্গল রেজিমেন্ট’-এ। হোমিওপ্যাথি নিয়ে পড়াশোনা করে কলকাতা সেন্ট্রাল কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট । সেই সময় থেকেই পরিচয় বড়ো বড়ো ওস্তাদদের সঙ্গে। তালিম নিয়েছেন ওস্তাদ বাদল খাঁ, বিশ্বনাথ রাও প্রমুখদের কাছে, পরে এসরাজ বাদনেও খ্যাতিলাভ করেন। কিন্তু তাঁর মূল অবদান উচ্চাঙ্গ সংগীতে ‘রাগ’-এর আত্মা ও স্বরূপ বিশ্লেষণ ও সেই সংক্রান্ত গবেষণামূলক কাজে। তাঁর রচিত ‘Ragas and Raginis’ ও ‘স্মৃতির অতলে’ গ্রন্থদুটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ২৫শে জানুয়ারি ১৯৭৮ এ প্রয়াত হ’ন অমিয়নাথ সান্যাল । এ হেন শ্রদ্ধেয় অমিয়নাথ সান্যালের ওপর বই পাবেন মেলায়।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) চিরস্মরণীয় কথাসাহিত্যিক। অবিভক্ত চবিবশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার কাছে ঘোষপাড়া -মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস ওই জেলারই ব্যারাকপুর গ্রামে। বাবা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত; পান্ডিত্য ও কথকতার জন্য তিনি ‘শাস্ত্রী’ উপাধিতে ভূষিত হন।

১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। ভাগলপুরে চাকরি করার সময় ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি পথের পাঁচালী রচনা শুরু করেন এবং শেষ করেন ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: অপরাজিত (১৯৩১), মেঘমল্লার (১৯৩১), মৌরীফুল (১৯৩২), যাত্রাবদল (১৯৩৪), চাঁদের পাহাড় (১৯৩৭), কিন্নরদল (১৯৩৮), আরণ্যক (১৯৩৯), আদর্শ হিন্দু হোটেল (১৯৪০), মরণের ডঙ্কা বাজে (১৯৪০), স্মৃতির রেখা (১৯৪১), দেবযান (১৯৪৪), হীরামানিক জ্বলে (১৯৪৬), উৎকর্ণ (১৯৪৬), হে অরণ্য কথা কও (১৯৪৮), ইছামতী (১৯৫০), অশনি সংকেত (১৯৫৯) ইত্যাদি। তাঁর জীবনের কথা ফুটে উঠেছে পুত্র তারাদাসের লেখা বইয়ে।


Posted

in

, ,

by

Tags:

Comments

Leave a Reply