চা শিল্পকে বাঁচাতে স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এল ডুয়ার্সের শ্রমিকরা

HnExpress ৮ই মে, অরুণ কুমার, উত্তরবঙ ঃ চা শিল্পকে বাঁচাতে স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এল ডুয়ার্সের এক চা বাগানের শ্রমিকরা। সারাদেশে লকডাউন এর ফলে শিল্পক্ষেত্রে নেমে এসেছে বিরাট সংকট। উত্তরবঙ্গের চা শিল্পেও সংকটের মুখোমুখি ঠিক এমন এই মুহূর্তে ডুয়ার্সের চা শ্রমিকরা তাদের চা শিল্পকে বাঁচাতে স্বেচ্ছায় শ্রমের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে সমাধানের সূত্রের এক অভিনব বার্তা চা বাগানের মালিকদের দিল তারা।

এদিন ডুয়ার্সের একটি চা বাগানে শ্রমিকরা তাদের শ্রমদানে এগিয়ে এলেন যাতে আগামী দিনে এই শিল্প হারিয়ে না যায়। তাই এই চা শিল্প যাতে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেই লক্ষ্য নিয়েই তারা নেমে পড়লেন বাগানের বিভিন্ন লোকেশনে। আর উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের ইতিহাসে শ্রমিকদের বিনা পারিশ্রমিকে শ্রমদানের ঘটনা এই প্রথম বলে জানা গেছে। এর একটি ছবি ধরা পড়েছে আমাদের ক্যামেরায়। উত্তরবঙ্গের চা বাগানের ইতিহাসে এই প্রথম ঘটল এক অভিনব ঘটনা।

শ্রমিকরা যেখানে প্রতিনিয়ত তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন মুখর থাকেন। সেখানে কিন্তু লকডাউনের ফলে সারা দেশে যে অবস্থা দাঁড়িয়েছে তাতে করে বিভিন্ন শিল্প সংকটের মুখোমুখি। আর এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন রাস্তা অবলম্বন করছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সে ক্ষেত্রে আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকরা বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স চা বাগানের শ্রমিকরাও দেখালেন নতুন রাস্তা। বৃহস্পতিবার বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটির দিনে তারা লাইনে গিয়ে পুরো আধঘন্টা ধরে চা বাগানের যাবতীয় কাজ করলেন বিনা পারিশ্রমিকে।

 

 

যার সঙ্গে যুক্ত হলেন মহিলা পুরুষ এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের যুক্ত শ্রমিকরা। এক অভিনব চিত্র তুলে ধরল জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত চা বাগানের শ্রমিকরা। শিল্পমহলকে দেখালো এক নতুন অভিনব পথ এবং সাথে বার্তা দিল এভাবেও শিল্পকে বাঁচানো সম্ভবপর। প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজার মহাকুমার ডামডিম অবস্থিত গুড হোপ চা বাগানের ম্যানেজার রাকেশ গৌড় এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন তাদের কাছে শ্রমিক মহলের কাছ থেকে প্রস্তাব আসে সম্মিলিতভাবে তারা স্বেচ্ছায় বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম প্রদান করতে চান বুদ্ধপূর্ণিমার ছুটির দিনে।

তারপর এই প্রস্তাব তাঁরা বিবেচনা করে অনুমতি দেন স্বেচ্ছাশ্রমের জন্য। বৃহস্পতিবার প্রায় আধঘন্টা মত তারা কাজ করেন বিনা মজুরিতে। শ্রমিকদের এই অবদান চা শিল্পমহলকে সত্যিই অভিভূত করেছে এবং তাঁরাও খুব উৎসাহিত বোধ করছেন যে এইভাবেই আগামী দিনে চা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হতে পারে বলে। এখন দেখার বিষয় আগামী দিনে এই চা শিল্পমহল এবং চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা কিভাবে এই শিল্পকে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অবদানের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

বিনা পারিশ্রমিকে, বিনা মজুরিতে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়ার পর শ্রমিকরা শ্রমিকদের এই ভূমিকাতে খুবই খুশি শিল্পমহল। উত্তরবঙ্গের এই বিষয়টি নিয়ে এসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার উত্তরবঙ্গ সচিব ড: রাম অবতার শর্মা জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনায় অভিভুত। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ এর চায়ের ইতিহাসে এই ঘটনা বিরলতম। তাঁর মতে, যদিও অর্থনৈতিক ভাবে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। আর এই আর্থিক ক্ষতি যদিও পূরণ করা সম্ভব নয়, কিন্তু আগামী দিনে যাতে এই শ্রম শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে পারে তারই নতুন বার্তা দিল এরা।

 

 

শ্রমিকদের এই আত্মবলিদানে তাঁরা যারপরনাই খুশি, অভিভূত এবং তাঁরা উত্তরবঙ্গের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শ্রমিককে শুভেচ্ছা বার্তাও জানিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় যে এই চা শিল্পমহল এবং শ্রমিকরা কিভাবে আর কতদিন এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়।

 

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: