গোষ্ঠী সংঘর্ষের ঘটনায় দুই তৃণমূল যুবনেতা-সহ গ্রেপ্তার ৫, প্রতিবাদে রেল অবরোধ হালিশহরে

HnExpress দেবাশিস রায়, কাঁচরাপাড়া : ২২ অক্টোবর, সোমবার কাঁচরাপাড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে আহত হন এক কিশোরী-সহ দুইজন। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বীজপুরের দুই তৃণমূল যুবনেতা ও তিন যুব তৃণমূল কর্মীকে গ্রেপ্তার করে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। আজ বুধবার সবশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, ২৩-১০-২০১৮ তারিখ অনুযায়ী কেস নম্বর ৫৯১-তে আদালতে মামলা রুজু হয়। মোট আটটি ধারায় মামলায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এই দুই যুবনেতার বিরুদ্ধে। তবে সবকটিই জামিন অযোগ্য ধারা বলে জানা গেছে।

ধৃতরা হলেন যুবনেতা সুদীপ্ত দাস ও রাজা সরকার। এছাড়াও বীজপুর পুলিশ সোমবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে প্রণব সরকার, বিদুর প্রসাদ ও টিঙ্কু রাজবংশীকে গ্রেপ্তার করেছে।

সুদীপ্তকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে হালিশহর স্টেশনে অবরোধ করে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। অবরোধ করা হয় ৮৫ ও ২২ নম্বর বাসরুটে এবং কল্যাণী-বারাকপুর এক্সপ্রেস ওয়েও। হালিশহর স্টেশন থেকে বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার জন্য যে টোটো, অটো ও রিকশা চলাচল করে তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার জেরে অসুবিধায় পড়েন অফিস ফেরত যাত্রী ও লক্ষ্মী পুজোর বাজার করতে যাওয়া এলাকার মানুষজন। ঘেরাও করা হয় বীজপুর থানাও। যদিও রেল বা সড়ক অবরোধ দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়নি।

বিশেষ সূত্রের খবর, নিরাপত্তার দিকে তাকিয়ে রাজা ও সুদীপ্তকে বীজপুর থানার পরিবর্তে নৈহাটি থানায় রাখা হয়েছে। বুধবার, ২৪ অক্টোবর ধৃতদের বারাকপুর আদালতে তোলা হবে।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে যুব তৃণমূলের সভাপতি অভিষেক ব্যানার্জির ডাকা বিজয়া সম্মেলনে যোগ দিতে গেছিলেন বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়। সেখানেই বিধায়কের কাছে বীজপুরের গণ্ডগোলের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চান অভিষেক। সব শুনে অভিষেক বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এর কমিশনারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেন। এরপরই নড়েচড়ে বসে বীজপুর পুলিশ প্রশাসন। তড়িঘড়ি সুদীপ্ত দাস ও রাজা সরকারকে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। তবে তাঁরা থানায় আসার আগেই দুজনকে বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। আর তাঁদের গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে থানা ঘেরাও হতে পারে টের পেয়ে কমিশনারের নির্দেশে ধৃত দুই যুবনেতাকেই নিরাপত্তার খাতিরে নাকি নৈহাটিতে স্থানান্তরিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, এই দুজনই একসময় বামপন্থী রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে খবর। বিধায়ক শুভ্রাংশুর হাত ধরেই তাঁদের তৃণমূলে আসা। আস্তে আস্তে রাজা কাঁচরাপাড়ায় ও সুদীপ্ত হালিশহরে আধিপত্য বিস্তার করে। তাঁরা দুজনেই হয়ে ওঠে স্বঘোষিত(!) যুবনেতা। শুভ্রাংশুকে ছেড়ে তাঁরা আশ্রয় নেন ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের ছত্রছায়ায়। রাজা ও সুদীপ্ত হয়ে ওঠে অভিন্ন হৃদয়! কিন্তু সম্প্রতি রেলের টেন্ডার-সহ কয়েকটি বিষয়ে দুজনের মতপার্থক্য দেখা দেয়। আর তারপর স্বভাবতই বাধে গোল। আর এরই মধ্যে গত বছর বাবা মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েন শুভ্রাংশু। সম্প্রতি পুজোর মুখে অসুস্থতা কাটিয়ে ফের বীজপুরের রাজনীতির আঙিনায় ফিরে আসেন শুভ্রাংশু। আর এদিন দুজনার গ্রেপ্তারের ঘটনায় শুভ্রাংশু’রই অঙ্গুলিহেলনের ইঙ্গিত পাচ্ছেন সুদীপ্ত ও রাজার অনুগামীরা।

এখন দেখা যাক বুধবার বারাকপুর আদালত ধৃত দুই যুবনেতার বিষয়ে কী রায় দেয়! তাঁদের কি আদৌ জামিন মিলবে? নাকি অন্য কিছু অপেক্ষা করছে তাদের জন্য! এখন সময়ই বলবে সেই কথা।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: