গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হোলি মিলন উৎসবে জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

HnExpress সমীর দাস, কলকাতা ঃ গতকাল কসবার গীতাঞ্জলি স্টেডিয়ামে ‘হোলি মিলন’ উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা বাংলার জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তাঁর মূল্যবান বক্তব্য এর মধ্য দিয়ে সারা রাজ্য তথা দেশের মানুষের কাছে এক বৃহত্তর সম্প্রীতির বার্তা দেন তিনি। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, তিনি কোনওদিনই এই দেশকে ভাগ হতে দেবেন না। হোলি এমন একটা উৎসব যেখানে সব ধর্মের মানুষই অংশ নেয় বা নিতে পারে। নবরাত্রির সময়ও আমি ডান্ডিয়া উৎসবে অংশগ্রহণ করেছি বহুবার। ছট পুজো, হোলি, দোল, দিওয়ালি, কালি পুজো সবেতেই ছুটি দেয় আমাদের সরকার।

তিনি আরও বললেন যে, সবার সবাইকে সম্মান দেওয়াই আমাদের পরম্পরা, আমরা সব ধর্মকে সমান ভাবে শ্রদ্ধা করি এবং সব ধর্মের উৎসব পালন করি, তাই উৎসব সবার জন্য। ধর্মের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে ভাগাভাগি এর আগে আমি কখনো দেখিনি। বাংলায় সব ধর্মের মানুষই শান্তিপূর্ণ ভাবেই বসবাস করেন এবং অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় তারা বাংলায় অনেক বেশি ভালো ভাবে আছেন বলেই আমি মনে করি। তবে ইদানীং কিছু লোক বাইরে থেকে এসে মিথ্যে কথা বলছে যে বাংলায় দুর্গাপুজো হয় না। বাংলায় সব পুজো হয়। সব ঘরে ঘরে, আমরা সব দেবতার পুজো করি। কিন্তু কেউ কেউ এইসব মিথ্যে অপবাদ ছড়িয়ে বাংলাকে অশান্ত করতে চাইছে, পুজো বন্ধ করতে চাইছে।হিন্দু ধর্ম সনাতন ধর্ম, যাঁর পথপ্রদর্শক শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ ঠাকুর ও স্বামী বিবেকানন্দ।Na

এদিন তিনি আরও জানালেন যে, আজ এখানে সহিষ্ণুতা আছে বলেই বাইরের রাজ্যে থেকে মানুষেরা এখানে এসে ভালোভাবে থাকতে পারছেন। সকল ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আমরা ছুটি প্রদান করি সরকারি ভাবে, কারণ আমরা প্রত্যেক ধর্মকেই বিনম্রতার সাথে শ্রদ্ধা করি।আমি কখনই মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করিনি বা কাউকে করতেও দিইনি এই রাজ্যে।

এদিন হোলি উৎসবে এসে তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আরও উঠে এল যে, আপনারা রামের নাম করে নির্বাচন করেন অথচ ৫ বছরেও একটা রাম মন্দির বানাতে পারলেন না। কিন্তু আমরা ভোটের রাজনীতি করি না, আমরা রাম রহিম সবার সাথেই ছিলাম ও আছি। এখানে মানে এই শান্তি প্রিয় বাংলায় সব ধর্মের মানুষ একসাথে এক পরিবারের মতো বসবাস করে। তবে এক জায়গায় সব বাসনপত্র থাকলে একটু ঠোকাঠুকি তো লাগবেই, তবে ওটা নিতান্তই গৌন বিষয়। সদা সুন্দর পরিবেশ গড়তে হলে সবার আগে আমাদের সবার প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদান এর মনোভাব তৈরি করতে হবে। নিজের নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার অভিপ্রায় দেশ টুকরো করলে দেশ তৈরি হয় না কখনো।

তিনি বললেন, জীবন দিতে রাজি আছি কিন্তু দেশ ভাগ হতে দেব না, আর না দেব নিজের মানুষদের ভাগ হতে। সবাইকে একসাথে নিয়ে চলাই আমাদের কাজ, যে দেশের সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসতে জানে একমাত্র সেই দেশের নেতা বা নেত্রী হওয়ার যোগ্য, আর তাকেই সবাই ভালোবাসে, আপন করে নেয়।

তাঁর মতে, নোটবাতিল আমরা সমর্থন সেদিনও করিনি আর আজও করি না, সেদিন মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যেই আমি বলেছিলাম এটা ঠিক নয়, মানুষ বেকার হয়েছে, আমি নোটবন্দি নিয়ে তদন্ত শুরু করাবো। জিএসটির এমন প্রচলন করেছে যে আজ মানুষের ব্যবসা নষ্ট হয়ে গেছে; আমরা এর রিভিউ করব যাতে শিল্প, কৃষক, নব প্রজন্মেরা আর সমস্যায় না পড়ে। আজ সারা দেশের ২ কোটি মানুষ বেকার হয়েছে মাত্র ১ টি বছরে আর অপরদিকে বাংলায় ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান করেছি আমরা।

তাঁর কথা অনুযায়ী, আমরা মন থেকে কাজ করি, ভোটের জন্য নয়। আমরা মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিই না ,আমরা কাজে করে দেখাই। ওরা যা বলে সেটা কাজে করে না, আর নির্বাচনের সময় বাহানা করে। দেশের প্রধানমন্ত্রী শুধু মাত্র জুমলায় বিশ্বাসী। কাল বলল জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবে, কিন্তু কি বলবে বুঝতেই পারছিলাম না, ভাবলাম ঝড় আসবে, যখন আসল খবর বেরোল, তখন সবাই দেখলাম ‘ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশী’। A-SAT হল বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। কিন্তু বিজেপিকে দেখুন, প্রত্যেক নেতারা চৌকিদার হচ্ছে। আমরা আসল চৌকিদারদের সম্মান করি। ধর্ম মানে মানবতা। আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন বাংলাকে ভাগ হতে দেব না। দেশও ভাঙতে দেব না।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: