প্রতহ্য কয়েক’শো ক্ষুদার্থ শিশুর মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন আসানসোলের চন্দ্রশেখর

HnExpress বিশেষ প্রতিবেদন, আসানসোল ঃ পেশায় শিক্ষক আসানসোলের চন্দ্রশেখর কুন্ডু যা করছেন, আজকের অবহেলিত সমাজে তা সত্যিই উপেক্ষা করা যায় না। তিনি আসানসোলের আশপাশের কয়েক শত ক্ষুদার্থ পথ শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে ও পাপী পেটের জ্বালা মেটাতে রোজ তাদের পেট ভরে খাওয়ার যোগান দিচ্ছেন তিনি। আজ যাঁদের কাছে রোজ গরম ভাতের গন্ধ মানে রূপকথার গল্পের মতো, সেই অলীক স্বপ্ন আজ পূর্ণতা পেল প্রকৃত শিক্ষকের মানবিকতার স্বার্থে।

তবে শুধু তিনিই নন, এই ভালো কাজের জন্য তাঁর সঙ্গী হয়েছেন তাঁরই ইন্সটিটিউটের ছাত্র ছাত্রীরাও। বর্তমানে আসানসোলের কম্পিউটার সায়েন্সের এই শিক্ষক তৈরি করে ফেলেছেন ফুড, এডুকেশন ও ইকনমিক ডেভেলপমেন্ট বা সর্টে FEED নামে একটি সংস্থা। আর শুধুই খাদ্য সংগ্রহ করে এনে বিতরণই করে না, বরং তাদেরকে নিজের হাতে পরিবেশন করে এক অনন্য তৃপ্তির স্বাদ পেতে। সত্যিই বলতে আজকের যুগে এমন মানবিকতার নিদর্শন বড়ই বিরল। যেখানে আজ ভোটে জেতার তাগিদে দেশের নেতা মন্ত্রী থেকে তাদের সমর্থকেরা মারপিট, দাঙ্গা, বোমাবাজি থেকে মানুষ খুন করতেও উদ্ধত। সেখানে, সেই দেশেই প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার এমন মানব দরদী মানুষও জন্ম গ্রহণ করে দেশমাতৃকাকে ধন্য করে দিয়েছে।

আসানসোল অঞ্চলের বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ, হস্টেল, ক্যান্টিন ঘুরে চন্দ্রশেখর ও তাঁর ছাত্র ছাত্রীরা অবসর সময়ে উদ্বৃত্ত খাবার সংগ্রহ করেন। এমনকী আশেপাশের বিয়েবাড়ির বেঁচে যাওয়া খাবারও তাঁরা নিয়ে আসেন। আর সেই খাবার একত্রিত করেই রোজ কয়েক শত দুঃস্থ পথ শিশুদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন। আর শিশু ছাড়াও সেখানে খাচ্ছেন বহু অথর্ব বয়স্করাও। যাঁদের আর পরিশ্রম করার মতো ক্ষমতা নেই।

সুত্র অনুযায়ী সেই শিক্ষকের কথায়, ছোট থেকেই দেখে আসছি চারপাশে কত খাবার অপচয় হয়। লোকে খেতে না-পেরে ফেলে দেয় ডাস্টবিনে। কিন্তু ফেলার আগে কারও মাথাতেই আসে না যে, এ পোড়া দেশে এমন কত মানুষ আছেন যারা অনাহারে, অর্ধাহারে দিনগুজরান করেন। তাই আমি মানবিকতার খাতিরে স্বেচ্ছায় উদ্যোগী হয়ে আমার ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে এই কাজের ভার নিয়েছি নিজ কাঁধে। আর তাদের থেকেই জানা গেল যে, তাঁদের একটি নিজস্ব হটলাইনও রয়েছে। লোকজন সেই নম্বরে ফোন করলে, FEED-এর সদস্যরা গিয়ে খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: