সাপ্তাহিক সম্পাদকীয় : ইচ্ছে থাকলে কোনও বাধাই প্রতিবন্ধকতা নয়

HnExpress সম্পাদকের কলমে : কখনও লক্ষ্মীকান্তপুর লোকাল, কখনও বারুইপুর লোকাল, কখনও ক্যানিং লোকাল, আবার কখনও মেন লাইনের কোনও লোকালে দেখেছেন লোকটাকে। একটু হয়তো ভুল হয়ে গেলো। লোকগুলোকে দেখেছেন। এরা চোখে দেখতে পায় না। কিন্তু তাতে কী? তাঁদের দাবি চোখ নেই বলে কেনো নিজেকে বিকলাঙ্গ বলবো? কেনো অন্যের ওপর নির্ভরশীল হবো? দুচোখে অন্ধ হয়েও যে কিছু করা যায় তার চাক্ষুষ প্রমাণ দেন ইনি বা এঁনারা।

শিয়ালদায় ট্রেনটা সবে ঢুকেছে, সবাই নামবে। লোকটাকে বালিগঞ্জ থেকে দেখে আসছেন অনেকেই। আপনারও ইচ্ছে হতে পারে এদের কারও সঙ্গে দুমিনিট কথা বলতে! ততোক্ষণে শিয়ালদা স্টেশনে সবাই নেমে গিয়েছে। জানা গেল তার নাম কবির হোসেন। বাড়ি বীরভূূমে। কলকাতায় এসেছিলেন পড়াশোনার জন্য। তারপরে তার মনে জাগে কিছু একটা করা দরকার। আর কতদিন পরিবারের ভরসায় থাকা যায়! যেমন ভাবা তেমনই কাজ। ব্যবসা শুরু করলেন।

বাড়িতে আছেন মা-বাবা-দাদা-বউদি-ভাইপো। কতদিন আর অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকা যায়! এবার নিজের কিছু একটা করা দরকার। আর সেই ভাবনার গতিকে বিগত প্রায় তিন বছর ধরে ব্যবসা করছেন তিনি।

হ্যাঁ তিনি বলেছেন তাঁর অসুবিধা খুব হয় না। কারণ তার মতে যে মানুষ পথ চেনে না কিন্তু চোখে দেখতে পায়। সে মানুষ কাউকে না কাউকে প্রশ্ন করে পথ চলে। তাই তারও কোনও সমস্যা হয় না। তবে প্রথম প্রথম সমস্যা হত। তবে এখন ঠিক আছে। না এনারা একা নয়, এদের মতো আরও অনেকে আছেন। এদের একটা দল আছে। যারা এক সঙ্গে থাকে। এরা হাত পেতে ভিক্ষা চায় না। জিনিস এবং পরিশ্রমের বিনিময়ে টাকা নেয়।

কিন্তু এদের ব্যাপারে এতগুলো কথা লেখার কারণ কী? এবার আসা যাক আসল ব্যাপারে। ট্রেনে কম বেশি প্রায় সবাই বাড়ির বাচ্চার জন্য লজেন্স কেনেন। কেউ বা কেনেন নিজেদের খাওয়ার জন্য। কেউ কেউ অদ্ভুত আচরণ করেন। এদের থেকে লজেন্স না কিনে পরক্ষণেই অন্য একজন লজেন্স ব্যাপারির থেকে সেটাই কেনেন। এর পরের ঘটনা আরও আকর্ষণীয়। এই অন্ধদের কাছ থেকে লজেন্সের বিনিময়ে টাকা দিতে সমস্যা। কিন্তু কমবয়সী কোনও ছেলে ঠাকুরের ফটো দেখিয়ে হাত পাতলে তাকে টাকা দিতে সমস্যা নেই। যাঁরা এমন করছেন তাঁদের কি পুণ্যি হচ্ছে? সত্যি করে বলুন তো? ঈশ্বর-আল্লা বা গড কি কখনও বলেছেন আপনাকে যে নিজেদের অক্ষমতাকে যারা হাতিয়ার না করে নিজের পেট চালানোর চেষ্টা করছে তাদের পেটে লাথি মারো?

অনুরোধ একটাই ঘরের বাচ্চার জন্য তো লজেন্স কেনেন? পুজোর জন্য ধূপকাঠি কেনেন? সেই যখন কেনেন তাহলে এদের কাছ থেকে কিনতে সমস্যা কোথায়? বিশ্বাস করুন ওরা চুরি করছে না, লোকের কাছে ভিক্ষাও চাইছে না। ওরা লড়াই করে পরিশ্রম করে উপার্জন করতে চাইছে। আমাদের উচিত নয় কি ওদের পাশে থাকা? নিজেকে এবং নিজেদের বিবেককে প্রশ্ন করুন। আর এই বিষয়ে সোচ্চার হোন অন্যকেও সচেতন করুন। সঙ্গের ছবিটি সেই কবিরের, যে জীবনের সব প্রতিবন্দকতাকে ঠেলে সরিয়ে  স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ এগিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।

তথ্য ও ছবি ফেসবুকের সৌজন্যে প্রাপ্ত।

Leave a Reply

%d bloggers like this: