Sun. Feb 23rd, 2020

আইসিএসসি পরীক্ষায় চুরান্ত সফলতায় আত্মপ্রত্যয়ী ক্যান্সার আক্রান্ত দেবজিত ঘোষ

HnExpress রূপা বিশ্বাস, শিলিগুড়ি ঃ আইসিএসি পরীক্ষায় ৯৫.৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে সকলের মন জয় করে নিল মারণ রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত দেবজিত ঘোষ। দুবছর আগে যখন দেবজিত ক্লাস নাইনে পড়ত, তখন থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত। প্রায় রাত্রেই ঘুমোনোর সময় কাশি এবং শ্বাসকষ্ট হত দেবজিতের।তারপর তাঁকে শিলিগুড়িতে ডাক্তরের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি কার্ডিয়ো থোরাসিক সার্জেনের কাছে দেখানোর পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিল্লিতে। সেখানে দেখানোর পর ধরা পড়ে, দেবজিতের থাইমাস গ্ল্যান্ডে এক ধরনের মাংসপিণ্ড তৈরি হয়েছে। তারপর সেখানেই বায়োপসি করানো হয়। এবং বায়োপসি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায় ক্যান্সার নামক মারণ রোগে আক্রান্ত হয়েছে নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র দেবজিত ঘোষ। তবে সে অসুস্থ অবস্থাতেও মনের জোর না হাড়িয়ে, সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে আইসিএসসি পরিক্ষায় প্রাপ্ত ৯৫.৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে রিয়েল হিরো দেবজিত।

গত দু’বছর ধরে এই মারন রোগের সাথে লড়াই করে দেবজিত এগিয়ে চলেছিল তার জীবনের বহু আকাঙ্খিত লক্ষ্যের দিকে। শিলিগুড়ির অতুল প্রসাদ সরনীর নিজের বাড়িতে বসেই দেবজিতের এই।অসুস্ততার কথা জানান দেবজিতের মা অঞ্জনা ঘোষ ও বাবা জয়ন্ত ঘোষ। তাঁদের কথা অনুসারে জানা যায়, নন’হজকিন’স লিম্ফমা নামে রোগে আক্রান্ত হয়েছে দেবজিত। তারা আরো জানান যে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম কেমো দেয়া হয় দেবজিতকে, কিন্ত সেটা পুরোপুরি সফল হয়নি। তার বাবা-মায়ের কথা অনুসারে জানা যায়, বেশ কিছু চিকিৎসকদের মতে রোগীর যা শারীরিক পরিস্থিতি আর স্টেজেও প্রায় শেষ পর্যায়ের, তাই তাঁকে আর বেশিদিন বাঁচানো প্রায় অসম্ভব।তারপরেও তার পরিবার আশায় বুক বেঁধে আবারও তাঁকে উচ্চসম্পন্ন কেমো দেয়া হয়, তবে তাতে সফল হলেও দেবজিতের গলার নিচ থেকে অসাড় হয়ে যায়। তারা তাদের অসুস্থ ছেলেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর শুরু হয় ফিজিওথেরাপি।
তারপর আস্তে আস্তে সুস্থ হতে থাকে সে। কিন্ত গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো ভাবেই কলম ধরতে পারত না দেবজিত। তার এই চরম অসুস্ততার জন্য নবম শ্রেণী থেকেই স্কুল যাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

শিলিগুড়িতে যে স্কুলে দেবজিত পড়তো, এবার সেই স্কুলের অধ্যক্ষ সিস্টার খ্রিস্টিন এগিয়ে আসেন এবং তিনি তার প্রিয় ছাত্রের জন্য বোর্ডের অফিসে দরবার করেন এবং নিজ দায়িত্বে রেজিস্ট্রেশন করান এক মেধাবী ছাত্রকে অকালে ঝরে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে, এক নতুন আলোর দিশারী হতে। দেবজিতকে সাহায্য করতে স্কুলের দুই শিক্ষকরাও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসেন। সে যে পরিক্ষায় বসতে পারবে আবার, সেটা স্বপ্নেও ভাবতেই পারেনি মৃত্যুকে পরাস্ত করে জয়ী হয়ে আসা অসুস্থ অথচ দৃঢ়চেতা দেবজিতের মা-বাবা। অদম্য মনবলের জন্য আজ কোনো কিছুতেই দেবজিতকে হার মানাতে পারেনি। আর তারই ফলস্বরূপ এই ভয়ংকর মারন রোগকে হার মানিয়ে ৯৫.৮ শতাংশ নাম্বার নিয়ে পাস করে সে তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা মানব জাতিকে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: