অসহায়দের পাশে “কলকাতা বিধান মানব বিকাশ সমিতি”

HnExpress ২৮শে এপ্রিল, অভিজিৎ হাজরা, হাওড়া ঃ বর্তমানে করোনার থাবায় ও লকডাউনের প্রভাবে চারিদিকে শুধু হাহাকার অর্থাভাব আর খাদ্যাভাবের হাহাকারের মাঝে এগিয়ে এলো অসহায়দের পাশে থাকার অঙ্গীকারে “কলকাতা বিধান মানব বিকাশ সমিতি”। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সালে দামোদর নদের প্রলঙ্করী বন্যায় আমতা-১, আমতা-২ এবং উদয়নারায়নপুর ব্লক সহ হাওড়া জেলার বিভিন্ন গ্ৰাম প্লাবিত হয়। মানুষ অন্নহীন, বস্ত্রহীন ও আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।

 

 

আর সেই অবস্থায় বিবেকানন্দের ভাবাদর্শে, “জীবে প্রেম করে যে জন, সে জন সেবিছে ঈশ্বর”, বাণীতে অনুপ্রাণিত হয়ে আমতা থানার অন্তর্গত তথা আমতা-১ নং ব্লকের রসপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত কয়েকজন তরুণ তাদের সামান্যতম সঞ্চয়কে পুঁজি করে এই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ায়। নিজেদের মত করে সাহায্য করতে থাকে তাদের। এলাকার এই উদ্যোমী যুবকদের সমাজসেবায় অনুপ্রাণিত হয়ে, গ্ৰামের প্রয়াত রুপালি বসু, প্রয়াত শম্ভুচরণ বসু ওই যুবকদের একটি সংগঠন তৈরীর জন্য উপদেশ দেন।

 

 

সেই সাথে তাঁরা বলেন, সংগঠন তৈরীর জন্য জায়গা দান করবেন। সেইমত তাঁরা জায়গাও দান করেন। তাঁদের দান করা জমিতেই গড়ে ওঠে এই সংগঠন। সেই সময় গ্ৰাম-বাংলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছিল। স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য সদস্য-সদস্যারা এগিয়ে এসে ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ডাক্তার বিধান চন্দ্র রায় ও যুগনায়ক বিবেকানন্দের স্বপ্ন ও লক্ষ্য “আধুনিক পশ্চিমবঙ্গ” সফল করতে তাঁরা সংগঠনের নাম দেন “কলকাতা বিধান মানব বিকাশ সমিতি”।

 

 

১৯৭৮ সাল থেকে এই সমিতির সভ্য-সভ্যারা, কর্মীবৃন্দ গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার বিভিন্ন ব্লকের প্রত্যন্ত গ্ৰামগুলিতে সমাজসেবা মূলক কাজ শুরু করেন। গ্ৰাম বাংলার মানুষ যখনই কোনো সমস্যায় পড়েছে তখনই সমিতির সভ্য-সভ্যারা, কর্মীবৃন্দ ত্রাতার ভূমিকায় তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যার সমাধান করেছেন এবং করে চলেছেন। সমিতিতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবাও দেওয়া হয়। এলাকার যুবক-যুবতী, গ্ৰামীণ মহিলাদের স্বনির্ভর করার জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও চালু করেছেন তাঁরা।

 

 

প্রতি বছর পুজার সময় নতুন বস্ত্র, শীতকালীন সময়ে শীতকালীন পোশাক, কম্বল, চাদর বিতরণ করে চলেছে, বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায়। এদিন এই সমিতির প্রতিষ্ঠাতা ও যুগ্ম কর্ণধার তারাপদ মান্না এবং অর্চিতা (বসু) মান্না বলেন, বর্তমানে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সমিতি ক্ষুদ্র ক্ষমতা নিয়ে এই সংকটময় মুহুর্তে সরকারি ব্যবস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান-ক্লাবের সাথে COVID-19 নিয়ে বিভিন্ন গ্ৰামে সচেতনতা শিবিরে আয়োজন করছি।

 

 

আমতা-১নং ব্লকের রসপুর গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ৬ টি গ্ৰাম, বালিচক গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ২ টি গ্ৰাম সহ উদয়নারায়নপুর ও আমতা ২ ব্লকের বিভিন্ন গ্ৰামগুলির জনগণকে এই লকডাউনের উদ্দেশ্য, এই সময় নিজেদের সুস্থ রাখা, পরিবারের সদস্য ও সদস্যাদের সুস্থ রাখা, পাড়া-প্রতিবেশীদের ও গ্ৰামকে সুস্থ রাখার জন্য পরামর্শ দান করছেন।গ্ৰামের দোকান-হাট-বাজার, যেখানে মানুষ একান্ত প্রয়োজনে যাচ্ছে সেখানে মানুষ কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবে তা নিয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। তাদেরই সুরক্ষার জন্য গ্ৰামের বিভিন্ন জায়গায় ব্লিচিং স্প্রে করা হচ্ছে।

 

 

শহর কলকাতা ভবানীপুরের “আহাম যুবা সেবা গ্ৰুপ” লকডাউনের এই পরিস্থিতিতে ২২৫ টি পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল, ডাল, তেল, আলু, লবণ, বিস্কুট, হলুদ, সোয়াবিন, চিনি এবং সাবান তুলে দিয়েছে। সংস্থা নিজের ফান্ড থেকে আরোও এমন ১০০ পরিবারের সদস্যদের কাছে ঐরূপ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শহর কলকাতার “বিবেকানন্দ স্বাস্থ্য সেবা সংঘ”-র সম্পাদক ডাঃ গৌর দাসের আর্থিক সহযোগিতায় ১২ বস্তা মুড়ি, বাদাম দেওয়া হয়েছে।

 

 

বর্তমানে সংস্থার “সম্পূর্ণা” প্রজোক্টের মাধ্যমে যেটা প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে কাজ করে, যেমন আমতা-১, আমতা-২ ও উদয়নারায়নপুর ব্লকের সেই ৩০ টি গ্ৰামে আমাদের স্থানীয় কর্মীদের তালিকানুযায়ী প্রায় ১৩০০ পরিবারকে চাল, ডাল, আলু, সোয়াবিন, সঃ তেল, সাবান, লবণ, চিনি, বিস্কুট, হলুদ-লঙ্কা ও অন্যান্য মশলাপাতি বিতরণ এর কাজ চলছে। এছাড়াও আমতা ১ নং ব্লকের খড়দহ, আমতা-২ নং ব্লকের দ্বীপাঞ্চল ভাটোরা, ঘোড়াবেড়িয়া-চিৎনান গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্ৰামের দুঃস্থ পরিবারদের দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।

 

 

তাঁরা আরও বললেন, এই কাজে আমাদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে “A.M.I পূর্তগার্ল” নামক সংগঠন। এই সমস্ত বিতরণের কাজ, সচেতনতা শিবির করা হচ্ছে সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের মোকাবিলা ও মানুষের অভাবনীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষদের সাহায্য-সহযোগিতা করার জন্য বিভিন্ন সংগঠন, সাধারণ মানুষ তাদের সাধ্যমত সাহায্য আমাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। আমরা— “চাই করোনা মুক্ত সুস্থ বাংলা, করোনা মুক্ত সুস্থ ভারত সহ গোটা পৃথিবী।”

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: